মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ফিরেছেন জেলেরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর অনেকে রাতেই নদীতে জাল ফেলেছেন, কেউ নৌকা ও ট্রলার গুছিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর একটি অংশ নামবেন বৃহস্পতিবার রাতে, জানিয়েছে দেশ রূপান্তর।
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুরের ভোলারখালসহ মেঘনাতীরের জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালাতে ধারদেনা করতে হয়েছে। জেলে মো. জাকির, মো. সাত্তার, মোস্তফা মাঝি ও নাগর মাঝি বলেন, "ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বেশি পেলে বিগত দিনের দেনা শোধ করে সংসার চালাতে পারব।"
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন জেলে। মো. রফিক, কাঞ্চন ও ইলিয়াসের অভিযোগ, সাধারণ জেলেরা নদীতে না গেলেও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় কিছু অসাধু জেলে দিনরাত মা ইলিশ ধরেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এতে নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না-ও মিলতে পারে।
জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জনকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়ার কথা, অর্থাৎ নিবন্ধিত জেলেদের একটি অংশ এই সহায়তার বাইরে। জেলেরা বলছেন, সহায়তার চালে পুরো পরিবারের ২২ দিনের খাবার ও অন্য খরচ চালানো কঠিন।
অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগ নিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সীমিত জনবল ও পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তা না থাকার পরও মৎস্য বিভাগ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করেছে। অভিযানে জেল-জরিমানা করা হয়েছে এবং ইলিশ, জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের আশা, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন দেশ রূপান্তরের ভোলা প্রতিনিধি মো. আনোয়ার পারভেজ।
ছবি: ভোলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের নৌকা, Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)