গরুর দুধ নয়, জেলি, সয়াবিন তেল, পানি আর চিনি ব্লেন্ড করে তৈরি হচ্ছিল "দুধ"। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে আবুল বাশারের বাড়ির এমন একটি কারখানায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে জব্দ হয়েছে ২ হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন তেল ও ৩২০ লিটার নকল দুধ, যা পরে ধ্বংস করা হয়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা গোপন সংবাদে কারখানায় নকল দুধ তৈরি পর্যবেক্ষণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আদালত পরিচালনার অনুরোধ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজের নেতৃত্বে আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড। সহযোগিতার দায়ে কর্মচারী সবুজ হোসেনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আবুল বাশারের কারখানায় এর আগে কয়েকবার অভিযানে নকল দুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া গেলেও এবারই প্রথম কারাদণ্ড হলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন নকল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করছিলেন।
অভিযানে এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুৎফুল কবির, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন; সহযোগিতা করে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ বলেন, শিশুখাদ্যে ভেজাল মেশানো অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন ইত্তেফাকের ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা।
সূত্র: ইত্তেফাক



মন্তব্য
(০)