শীত আসতে না আসতেই ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম বা সকালের ঠান্ডা বাতাসে অনেকের দাঁত শিরশির করে। প্রথম আলোয় দন্তচিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা লিখেছেন, এটিকে শুধু শীতের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়; এটি এনামেল ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা বা দাঁতের অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কেন হয়: দাঁতের বাইরের শক্ত আবরণ এনামেল, তার নিচে সূক্ষ্ম নালিভরা ডেন্টিন। এনামেল ক্ষয়ে গেলে বা মাড়ি সরে ডেন্টিন উন্মুক্ত হলে ঠান্ডা, গরম, মিষ্টি বা টক খাবারে অল্প সময়ের তীক্ষ্ণ ব্যথা হয়, যাকে বলে ডেন্টিন হাইপারসেনসিটিভিটি। শক্ত ব্রাশে জোরে মাজা, ঘন ঘন অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয়, ঘুমের মধ্যে দাঁত চেপে রাখা বা ঘষা, ক্যারিজ, ফাটল বা পুরোনো ফিলিংয়ের সমস্যাও কারণ হতে পারে। শীত নিজে কারণ নয়, আগে থেকে সংবেদনশীল দাঁতে অস্বস্তি বাড়ায়।
কখন সতর্ক হবেন: সাধারণ শিরশিরানি উদ্দীপনা সরালেই কমে যায়। কিন্তু ব্যথা দীর্ঘক্ষণ থাকলে, কোনো কারণ ছাড়া শুরু হলে, রাতে ঘুম ভাঙালে বা কামড়ে বাড়লে দাঁতের পাল্পে প্রদাহ, গভীর ক্যারিজ বা ফাটল থাকতে পারে। তখন শুধু সংবেদনশীল দাঁতের টুথপেস্ট ব্যবহার করে অপেক্ষা না করে দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে হবে; প্রয়োজনে এক্স-রে করে কারণ নির্ণয় করা হয়।
প্রতিদিনের যত্ন: নরম ব্রাশ দিয়ে দিনে দুবার, প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্টে দাঁত মাজুন, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কারে ফ্লস ব্যবহার করুন। ডা. শারমিন সুলতানার ভাষ্য, সংবেদনশীল দাঁতের টুথপেস্টে পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্যানাস ফ্লোরাইড থাকতে পারে; নিয়মিত ব্যবহারে শিরশিরানি কমতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
অ্যাসিডিক খাবার বা পানীয়ের পর পানি দিয়ে কুলি করুন এবং ব্রাশ করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। দাঁতে লেবু, লবণ বা কয়লা ঘষবেন না; এতে এনামেলের ক্ষতি বাড়ে। ব্যথার ভয়ে দাঁত পরিষ্কার বা এক পাশে চিবানো বন্ধ করাও ঠিক নয়।
মুখ বা গাল ফুলে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে, আর শ্বাস নিতে বা গিলতে অসুবিধা হলে তা জরুরি অবস্থা।
ছবি: টুথব্রাশে টুথপেস্ট, Thegreenj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)