২০২৬ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ২৬ অক্টোবর ভোরে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে এবং ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে পৌঁছানোর আগে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি), খবর ডাউন টু আর্থের।
ব্যবস্থাটি ২৩ অক্টোবর মধ্য-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ হিসেবে শুরু হয়ে ২৪ অক্টোবর নিম্নচাপ এবং ২৫ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। আইএমডির সর্বশেষ হালনাগাদে এটি ওডিশার গোপালপুর থেকে প্রায় ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে ছিল।
আইএমডির পূর্বাভাস, ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যার মধ্যে এটি ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার বাতাসের গতিসহ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে এবং ২৭ অক্টোবর ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৬৭ কিলোমিটার গতির অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২৮ অক্টোবর দুপুরের আগে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে এটি উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা, তখন বাতাসের একটানা গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
তামিলনাড়ু ও কেরালার কিছু অংশে বৃষ্টি ঝরানো আরেকটি লঘুচাপ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ছিল। বাতাসের তথ্যে দুই ব্যবস্থার মধ্যে কিছুটা মিথস্ক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যা দুটির একীভূত হওয়া ও শক্তি বৃদ্ধির দিকে নিতে পারে; এমনকি ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেড়ে যাওয়ার মতো দ্রুত শক্তি বৃদ্ধিও ঘটতে পারে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০২৩ সালের বিপর্যয় ও ২০২১ সালের তাউকতের মতো ঘূর্ণিঝড়ে দেখা গেছে।
স্থলভাগে ওঠার পর ঘূর্ণিঝড়ের অবশিষ্টাংশ উত্তর-পশ্চিম ও পরে উত্তরে উত্তরপ্রদেশ ও নেপালের দিকে যাবে বলে প্রাক্কলন; সেখানে পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে মিললে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের শেষে একই পথে যাওয়া একটি গভীর নিম্নচাপ ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ঘটিয়েছিল। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অক্ষিত সাংগোমলা।
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)