ডিএনএ সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য দ্রুত ও কম খরচে বের করার একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। গবেষকদের হিসাবে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যে কাজে প্রায় এক মাস লাগতে পারে, নতুন সফটওয়্যারে তা কয়েক সেকেন্ডে নির্ভুলভাবে করা যায়। সফটওয়্যারটি ডেস্কটপ ও ওয়েব, দুই সংস্করণেই সবার জন্য উন্মুক্ত; ওয়েব সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে dnasimlab.com ঠিকানায়।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলনকক্ষে এক কর্মশালায় সফটওয়্যারটি উপস্থাপন করা হয়। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স (সিএসএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন। দলে আরও ছিলেন মাইফি-উল আসাদ এবং বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও মো. আসিফুজ্জামান। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় কাজটি হয়েছে।
পদ্ধতিটি কীভাবে কাজ করে, তা-ও জানিয়েছেন গবেষকেরা। দুটি ডিএনএ সিকোয়েন্স অক্ষরে অক্ষরে না মিলিয়ে তাঁরা ডিএনএর ছোট ছোট অংশ নিয়ে দেখেছেন, সেগুলো অন্য ডিএনএতে কতটা মেলে। ডিএনএর দুই সুতোয় অক্ষরগুলো জোড়ায় থাকে (A-T, C-G), তাই সরাসরি মিলের পাশাপাশি উল্টো জোড়ার মিলও হিসাবে ধরা হয়েছে। এ থেকে প্রতিটি ডিএনএর জন্য একটি সংখ্যার তালিকা তৈরি হয়, আর সেই তালিকা তুলনা করে আঁকা হয় বংশবৃক্ষ বা ফাইলোজেনেটিক ট্রি।
পরীক্ষায় এ পদ্ধতিতে তৈরি বংশবৃক্ষ ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক পাওয়া গেছে। বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার মেগার (MEGA) তুলনায় এটি ৫৫ থেকে ১ হাজার ৭৪৭ গুণ দ্রুত কাজ করে এবং অন্য পদ্ধতির চেয়ে ৩০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম মেমোরি ব্যবহার করে। গবেষণাটির ওপর একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নাল মলিকিউলার জেনেটিক্স অ্যান্ড জিনোমিক্সে প্রকাশিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, সভাপতিত্ব করেন সিএসএম বিভাগের প্রধান মো. সাইদ ইফতিখার ইউসুফ। প্রধান অতিথি বলেন, তিন মাসের নিবিড় গবেষণায় তৈরি এই ব্যবহারবান্ধব সফটওয়্যার ব্যবহার ও উপস্থাপনা, দুই দিক থেকেই বড় অর্জন। উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশা করেন, এ উদ্ভাবন দেশের বায়োইনফরমেটিক্স গবেষণা ও সফটওয়্যার উন্নয়নে নতুন পথ খুলবে।
খবরটি দিয়েছেন বার্তা২৪-এর বাকৃবি করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)