বাংলাদেশের ডেইরি খামারে উৎপাদিত দুধের কার্বন পদচিহ্ন বা কার্বন ফুটপ্রিন্ট আগের অনুমানের চেয়ে ২৭ শতাংশ কম বলে জানিয়েছে এক নতুন গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল অব ডেইরি সায়েন্সে।
গবেষক দল ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্মে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবটি করেছেন। মানসম্মত লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশিকা মেনে দুধ দেওয়া গাভির পাশাপাশি খামারের অন্য গবাদিপশুকেও হিসাবে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খামারের মোট কার্বন নির্গমনের প্রায় ৪৮ শতাংশ আসে গরুর পরিপাক প্রক্রিয়া থেকে। এরপর পশুখাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত সার থেকে ২৪ শতাংশ, গোবর ব্যবস্থাপনা থেকে ২০ শতাংশ এবং খামার চালানোর শক্তি থেকে ৮ শতাংশ নির্গমন হয়।
পাঁচ বছরের গবেষণাকালে উন্নত ব্যবস্থাপনা ও সুষম খাদ্যের কারণে গরুর উৎপাদনশীলতা ৬৩ শতাংশ বেড়েছে, আর তাতে সময়ের সঙ্গে খামারের কার্বন নির্গমন ৩৭ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। প্রচলিত হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার খামারে কার্বন পদচিহ্ন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়, কারণ সেখানে একটি গাভি দিনে ৩০ থেকে ৪০ লিটার দুধ দিলেও বাংলাদেশে দেয় ৪ থেকে ৮ লিটার।
বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, খামারের উৎপাদনব্যবস্থার অংশ হওয়ায় দুধ না দেওয়া প্রাণীগুলোর হিসাবও বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, উন্নয়নশীল দেশে কেবল নির্গমন কমানোর কৌশলের চেয়ে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোই মূল চাবিকাঠি।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে মাংস ও দুধের খামার আলাদা হলেও বাংলাদেশে গবাদিপশু দুই কাজেই পালিত হয়। তাই এখানে মোট নির্গমনের মাত্র ৫০ শতাংশ দুধ উৎপাদনের ভাগে পড়ে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে তা প্রায় ৯০ শতাংশ। গবেষকেরা মানুষের পুষ্টির জন্য উৎপাদিত ক্যালোরির একক ধরে কার্বনের তুলনা করার সুযোগও তৈরি করেছেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় দুধের কার্বন নিয়ে এমন নির্ভুল তথ্য খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খামারির জন্য বার্তাটি সরল: সুষম খাদ্য ও ভালো ব্যবস্থাপনায় গাভিপ্রতি দুধ বাড়লে লিটারপ্রতি নির্গমনও কমে।
প্রতিবেদন: জাহিদ হোসাইন খান, প্রথম আলো।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)