বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের সুমন আহমেদ সেই জমি কিনে সমন্বিত কৃষি খামার গড়েছেন, যেখানে একসময় তাঁর বাবা আবদুল হামিদ হাওলাদার বর্গা চাষ করতেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় জমির মালিকের ভর্ৎসনা শুনে নিজের জমির কৃষক হওয়ার সংকল্প করেছিলেন তিনি; প্রথম আলো জানিয়েছে, ৭২ বছর বয়সে সেই সংকল্প পূরণ হয়েছে।
অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকায় শ্রমিক ও রংমিস্ত্রির কাজ করেছেন সুমন। ১৯৮২ সালে রংমিস্ত্রি হিসেবে কুয়েতে যান, পরে কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ঘুরে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। বিদেশের উপার্জনে বাড়ির পাশে ১২৩ শতক ও কিছুটা দূরে ৫০ শতক জমি কেনেন। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে পুকুর কেটে মাছ চাষ আর পাড়ে শ খানেক পেঁপের চারা দিয়ে শুরু করেন।
এখন তাঁর দুই খামার মিলিয়ে ১৭৩ শতকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পেঁপেগাছ ও তিনটি পুকুর। পাশাপাশি বেগুন, ধুন্দুল ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন। এ বছর ১৭ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন, অন্তত ৮ লাখ টাকা লাভের আশা তাঁর। খামারের আয় ২০২৩ সালে ৬ লাখ, ২০২৪ সালে ১৫ লাখ এবং ২০২৫ সালে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা হয়েছিল; এ বছর পেঁপে, সবজি, মাছ ও চারা মিলিয়ে কোটি টাকা ছাড়ানোর আশা করছেন।
সুমন বলছেন, বড় সম্ভাবনা চারা উৎপাদনে। ভারত থেকে আনা শাহি ও কাশ্মীরি জাতের বীজ কেনেন কেজিপ্রতি ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায়; এক কেজি বীজে ২১ হাজার চারা হয়। এ বছর ২০ লাখ চারার লক্ষ্য নিয়ে এরই মধ্যে ক্রয়াদেশের সাড়ে চার লাখ চারা তৈরি করেছেন, প্রতিটি বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়; চারাপ্রতি তাঁর লাভ দুই টাকা। চারার জন্য ইউভি স্টেবিলাইজড পলিথিনের ছাউনির সিডলিং হাউস করেছেন, যাতে ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খামারে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন, তাঁদের ছয়জন নারী। নারী শ্রমিক জেসমিন আক্তার বলেন, এই খামারে কাজ করে পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। স্ত্রীর নামে গড়া দেলোয়ারা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সুমন কৃষকদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেন; তাঁর দাবি, প্রায় দুই হাজার মানুষ সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কুমিল্লার লাকসাম থেকে আসা তরুণ উদ্যোক্তা ইসমাইল হোসেন ২০০টি চারা কিনে এক দিনের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ সুমনকে পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা বলেছেন। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষিবিদ নাহিদ বিন রফিক বলেন, রোগমুক্ত ও উচ্চফলনশীল এসব চারা বরিশালের লবণাক্ত মাটিতেও ভালোভাবে মানিয়ে নেয় এবং ভালো ফলন দেয়, তাই সারা দেশে চাহিদা বাড়ছে।
প্রতিবেদন: এম জসীম উদ্দীন, প্রথম আলো
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)