পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কৃষক ও খনি মালিকেরা উদ্বিগ্ন নতুন জাতীয় কর্মক্ষেত্র এক্সপোজার সীমা নিয়ে, যা ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়ে শত শত ধুলা, ধোঁয়া ও রাসায়নিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা কমিয়ে দেবে—তার মধ্যে আছে শস্যের ধূমক ফসফিন আর খোদ শস্যের ধুলা। শিল্প সংগঠনগুলোর বক্তব্য, কিছু নতুন সীমা এত কম যে বাস্তবে মাপার কোনো উপায় নেই; তারা সরকারের কাছে নিয়ম বদলানো বা পেছানোর আবেদন করছে।
ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান গ্রেইন গ্রুপের চেয়ার অ্যালাস্টেয়ার ফ্যালকনার (Alastair Falconer) বলেন, ফসফিনের এক্সপোজার সীমা ৮০ শতাংশ কমবে, যা ফসফিনকে ‘প্রায় অব্যবহারযোগ্য’ করে তোলে। অস্ট্রেলিয়ায় শস্য সংরক্ষণের বেশির ভাগই মজুত ও রপ্তানির শস্য পোকামুক্ত রাখতে ফসফিনের ওপর নির্ভরশীল, আর জৈবনিরাপত্তা আইনে অনেক আমদানিকারক দেশ পোকা পেলে পুরো চালানই ফিরিয়ে দেয়। ৩,৩০০ কোটি ডলারের অস্ট্রেলীয় শস্যশিল্পের বড় ভিত্তি রপ্তানি।
ওট, গম ও যবসহ শস্যধুলার সীমা কমেছে অর্ধেকের বেশি। ফ্যালকনার জানান, কীভাবে ধুলার এক্সপোজার মাপা যায় আর নিয়ম মানা যায়, সেই তথ্য খুঁজতে শিল্পের এখন ছোটাছুটি। তাঁর প্রশ্ন—হারভেস্টার ফুঁ দিয়ে পরিষ্কার করার বা নিজের সাইলো খালি করার সময় এক্সপোজার কত, তা মাপা হবে কীভাবে, আর সীমা না ছাড়াতে সঠিক সুরক্ষা সরঞ্জামই বা কী? মাত্রাগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি তিন বছর পেছানোর দাবি জানান।
সেফ ওয়ার্ক অস্ট্রেলিয়া বলছে, সংশোধিত সীমা বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ পরামর্শের প্রতিফলন; ২০১৯–২১ সালে জনপরামর্শ হয়েছে, কর্ম-স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মন্ত্রীরা সম্মত হয়েছেন এবং ২০২৪-এর এপ্রিলে প্রকাশ করে ১ ডিসেম্বর ২০২৬ কার্যকরের দিন ঠিক হয়েছে। সংস্থাটি স্বীকার করেছে, ফসফিনসহ কিছু সীমা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, এবং শিল্প, অস্ট্রেলীয় কীটনাশক ও পশুচিকিৎসা ওষুধ কর্তৃপক্ষ (APVMA) ও কৃষি, মৎস্য ও বন বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা দেখা হয় নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, শ্রমিকের ব্যক্তিগত বায়ু পর্যবেক্ষণে।
মানদণ্ড জাতীয়ভাবে ঠিক হলেও প্রয়োগ করবে প্রতিটি রাজ্য। ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়া আগস্টে জানিয়েছে, ফসফিনসহ ১৫টি বায়ুবাহিত দূষকের সীমা তারা ১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত পিছিয়ে দেবে। শস্য সংগঠনগুলো গত সপ্তাহে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জ্যাকি জার্ভিসের (Jackie Jarvis) সঙ্গে বৈঠক করেছে; মন্ত্রী এবিসিকে বলেছেন, ফসফিন সীমার প্রভাব নিয়ে তিনি আরও তথ্য চাইছেন। নতুন ব্যবস্থায় ৬০০-র বেশি পদার্থ আছে, প্রায় ২৫০টির সীমা কড়া হয়েছে।
খনি সংগঠনগুলোরও একই দাবি। অ্যাসোসিয়েশন অব মাইনিং অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন কোম্পানিজের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন পিয়ার্স (Warren Pearce) বলেন, ‘ঢালাও’ পদ্ধতি সব সময় বাস্তবসম্মত নয়—ম্যাঙ্গানিজের ক্ষেত্রে নতুন সীমার নিচে মাপার সক্ষমতাই নেই—তবে অ্যাসবেস্টস ও সিলিকার অভিজ্ঞতার পর শ্রমিকের নিরাপত্তাই আগে, সেটিও তিনি মানেন। মিনারেলস কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী তানিয়া কনস্টেবল (Tania Constable) বলেন, পরিবর্তনগুলোর প্রভাব বহু শিল্পে তাৎপর্যপূর্ণ এবং পরামর্শ চলছে। এবিসি রুরালের জন্য প্রতিবেদনটি করেছেন জোয়ানা প্রেন্ডারগাস্ট (Joanna Prendergast)।
সূত্র: এবিসি রুরাল

মন্তব্য
(০)