সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৯%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

জলবায়ু বদলালে ফসলও সরাতে হবে? দক্ষিণ আফ্রিকায় ভুট্টা ও লেবুজাতীয় ফলে লাভ বেশি

দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি গবেষণা পরিষদের বিজ্ঞানীরা ছয় ফসলের এক-দশমাংশ জমি নতুন উপযোগী এলাকায় সরানোর হিসাব কষে দেখেছেন, ভুট্টা ও লেবুজাতীয় ফলে প্রতিদান সবচেয়ে বেশি, আর কঠিন জলবায়ুতেও টিকে থাকে সরগাম।

জলবায়ু বদলালে ফসলও সরাতে হবে? দক্ষিণ আফ্রিকায় ভুট্টা ও লেবুজাতীয় ফলে লাভ বেশি
ফসল

উষ্ণ হতে থাকা জলবায়ুতে যে এলাকাগুলো চাষের জন্য বেশি উপযোগী হয়ে উঠবে, সেদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ভুট্টা ও লেবুজাতীয় ফলের চাষের একটি অংশ ধীরে ধীরে সরালে প্রতি ১ র‍্যান্ড বিনিয়োগে প্রায় ১.৫০ র‍্যান্ডের সুফল মিলতে পারে। দেশটির কৃষি গবেষণা পরিষদের (Agricultural Research Council, ARC) একদল গবেষক এই হিসাব দিয়েছেন। তাঁদের তিনজন ১ নভেম্বর ফুড ফর মজানসিতে এক লেখায় গবেষণার ফল তুলে ধরেছেন।

গবেষণায় ছয়টি ফসল দেখা হয়েছে: ভুট্টা, গম, সরগাম, লেবুজাতীয় ফল, অ্যাভোকাডো ও ম্যাকাডেমিয়া বাদাম। জলবায়ু ও ফসল-উপযোগিতার মডেলের সঙ্গে খরচ-সুফলের বিশ্লেষণ মিলিয়ে একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি যাচাই করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ফসলের বর্তমান চাষের জমির ১০ শতাংশ নতুন উপযোগী কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে সরে যায়। লেখকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ১০ শতাংশ মডেলের একটি ধরে নেওয়া মান, দেশের উৎপাদনের এক-দশমাংশ সরানোর সুপারিশ নয়। ২০৩০, ২০৫৫ ও ২০৮০ সালকে কেন্দ্র করে মাঝারি ও উচ্চ নিঃসরণের দুই ধরনের ভবিষ্যৎ ধরা হয়েছে, আর খরচ ও সুফল গোনা হয়েছে ৩০ বছর ধরে।

মাপকাঠি ছিল সুফল-খরচ অনুপাত: ১-এর বেশি হলে আনুমানিক সুফল খরচকে ছাড়িয়ে যায়। সুফলের হিসাবে শুধু কৃষকের আয় নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ও ধরা হয়েছে। মূল হিসাবে ভুট্টা ও লেবুজাতীয় ফলের অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫০, যা সবচেয়ে ভালোগুলোর একটি; সরগামের প্রায় ১.৪১।

দামি বাগানফসল সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ নয় বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। অ্যাভোকাডো ও ম্যাকাডেমিয়ার বাগান করতে বড় খরচ লাগে এবং পুরো ফলন আসতে কয়েক বছর পেরিয়ে যায়। এই সময়ে পানির জোগান, তাপমাত্রা, উপকরণের খরচ, রপ্তানির দাম ও বাজারে প্রবেশাধিকার বদলে গেলে চাষির ঝুঁকি বাড়ে। তাঁদের ভাষায়, বাজারদর বেশি হলেও একটি ফসলে দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজনের বড় ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

ভুট্টা বা গমের তুলনায় সরগাম অনেক ছোট শিল্প, কিন্তু তাপ, খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টি সইতে পারে বলে কঠিন জলবায়ুতেও এটি তুলনামূলক টিকে ছিল। তবে লেখকেরা বলছেন, শুধু এই গুণে সরগাম লাভজনক হবে না: বাজার সীমিত, ভোক্তার চাহিদা কম। বীজব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, নতুন পণ্য, সরকারি ক্রয় ও ভোক্তা সচেতনতায় বিনিয়োগ দরকার।

ফসল ও পরিস্থিতিভেদে মডেলটি ইস্টার্ন কেপ, কোয়াজুলু-নাটাল, লিম্পোপো ও ফ্রি স্টেটের অপেক্ষাকৃত শীতল ও উঁচু এলাকায় সম্ভাবনা দেখেছে। গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এগুলো মডেলের এলাকা, খামার পর্যায়ের রোপণ পরামর্শ নয়; বিনিয়োগের আগে পানি, মাটি, রাস্তা, বিদ্যুৎ, গুদাম ও বাজারে যাতায়াত যাচাই করতে হবে। উচ্চ নিঃসরণের ভবিষ্যতে কয়েকটি ফসলের ফলন তীব্রভাবে কমে; তাপ ও পানির চাপে সবচেয়ে নাজুক ভুট্টা, লেবুজাতীয় ফল, অ্যাভোকাডো ও ম্যাকাডেমিয়া।

লেখকেরা জলবায়ু, মাটি, পানি ও উৎপাদনের নতুন তথ্য দিয়ে নিয়মিত হালনাগাদ হয় এমন একটি ফসল-উপযোগিতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দাবি করেছেন, যা ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, অবকাঠামো, কৃষিঋণ, বিমা ও সম্প্রসারণ সেবায় পথ দেখাবে। লেখাটি এআরসির গবেষক ড. ওয়াল্টার শিবা (Dr Walter Shiba), হুইটনি মাতলি (Whitney Matli) ও হ্যারল্ড উইপেনারের (Harold Weepener); মতামত লেখকদের নিজস্ব।

ছবি: Lotus Head / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: ফুড ফর মজানসি

ফুড ফর মজানসিসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাঁকা কাণ্ড সোজা করতে গাছ দুই দিকে টান দেওয়া কাঠ গড়ে, ফরাসি গবেষণা

ফ্রান্সের গবেষকেরা দেখেছেন, কচি পপলার গাছ কাণ্ডের উল্টো দিকে টেনশন উড নামের বিশেষ কাঠ গড়ে নিজের বাঁক ঠিক করে; এ জ্ঞান সোজা গাছ ও হেলে না পড়া দানাশস্যের জাত তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।

সায়েন্সডেইলি১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বাংলাদেশ

AEZ-০৭: সক্রিয় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা প্লাবনভূমি, যেখানে নদী জমি গড়ে আবার কেড়েও নেয়

নদীভাঙন, নতুন চর, বালু-পলির মাটি আর অনিশ্চিত বন্যার মৌসুম। কুড়িগ্রাম থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার হেক্টরের এই অঞ্চলে কৃষিকে টেকসই করতে দরকার জমিভিত্তিক তথ্য, উপগ্রহচিত্রের পর্যবেক্ষণ আর সময়মতো পরিকল্পনা।

তানিয়া চৌধুরী১ নভেম্বর ২০২৬১৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বরেন্দ্রে বছরে ০.৬ মিটার পর্যন্ত নামছে পানির স্তর, সমন্বিত পানিনীতির দাবি

রাজশাহীতে নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি, খাল-বিল সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কম পানির ফসলের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাসস১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)