এল নিনোর কঠিন এক গ্রীষ্মের জন্য প্রস্তুত থাকতে নর্দার্ন কেপের চাষিদের বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি গবেষণা পরিষদের বিজ্ঞানীরা। প্রদেশের কৃষি বিভাগের আয়োজনে এক অনলাইন আলোচনায় এই সতর্কবার্তা আসে। দেশের সবচেয়ে শুষ্ক প্রদেশগুলোর একটি এই অঞ্চল।
জ্যেষ্ঠ গবেষক জোহান মালহার্ব (Johan Malherbe) জানান, এল নিনোতে সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির অঞ্চলে খরা হয়, নর্দার্ন কেপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পূর্বাভাস বলছে, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রদেশের ভেতরের বড় অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।
জলবায়ু গবেষক সারাহ রফ (Sarah Roffe) মনে করিয়ে দেন সর্বশেষ খরার কথা। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সেই খরা অনেক এলাকায় প্রায় ৭০ মাস ধরে চলেছিল। তাঁর ভাষায়, এত দীর্ঘ সময় কম বৃষ্টি মানে পশু ও চারণভূমি নিয়ে দীর্ঘ দুশ্চিন্তা। খরা তীব্র হলে গাছপালা ও চারণভূমির ক্ষতিও বেশি হয়।
হাতে-কলমে পরামর্শ দেন কৃষি-আবহাওয়াবিদ গুগুলেথু জুমা নেতশিউখউই (Gugulethu Zuma Netshiukhwi)। ফসল, জাত, পশুর জাত ও বোনার তারিখ ঠিক করার আগে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা দেখতে বলেছেন তিনি। এই মৌসুমে একসঙ্গে সব জমিতে বোনা ভালো হবে না; ধাপে ধাপে বোনার কথা ভাবতে বলেছেন।
পশুপালকদের সিদ্ধান্ত আরও কঠিন, কারণ খাবার ও পানি দুটোরই টান পড়তে পারে। তিনি বলেন, এই এলাকায় চারণভূমি ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। বড় পাল রাখার সামর্থ্য না থাকলে কিছু পশু বিক্রি করে দেওয়াই ভালো হতে পারে। এটি পরামর্শ, নির্দেশ নয়, সেটিও জোর দিয়ে বলেছেন। তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, পরজীবী ও রোগে পশু মারা যায় বলেও মনে করিয়ে দেন।
নেতশিউখউইয়ের মূল কথা, এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে পূর্বাভাস হাতে নিয়ে। কোন এলাকায় কোন ফসল, কোন জাত ও কোন পশু মানায়, তা বোনার আগেই ঠিক করতে হবে, বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফুড ফর মজানসির ওলওয়াম এমনিয়ান্ডে (Olwam Mnyande)।
ছবি: Andrew Hall / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)