সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৯°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস কিমি/ঘ

ইঁদুর মেরে সংসার চলে আনোয়ারের

ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ক্ষেতের ফসল সবকিছুতেই ভাগ বসিয়ে তা নষ্ট করে ইঁদুর। সেই ইঁদুর মারা এক সময় ছিল জয়পুরহাটের আনোয়ার হোসেনের নেশা। সময়ের ব্যবধানে এখন সেটিই হয়ে গেছে তার পেশা। বাড়ি কিংবা ক্ষেতের ইঁদুর মেরে বিনিময়ে পান চাল অথবা টাকা। তা দিয়েই দুই সস্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে চলে তার সংসার।

ফসল

ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ক্ষেতের ফসল সবকিছুতেই ভাগ বসিয়ে তা নষ্ট করে ইঁদুর। সেই ইঁদুর মারা এক সময় ছিল জয়পুরহাটের আনোয়ার হোসেনের নেশা। সময়ের ব্যবধানে এখন সেটিই হয়ে গেছে তার পেশা। বাড়ি কিংবা ক্ষেতের ইঁদুর মেরে বিনিময়ে পান চাল অথবা টাকা। তা দিয়েই দুই সস্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে চলে তার সংসার।

২৫ বছর ধরে ইঁদুর নিধন করে যাচ্ছেন তিনি। চার লাখ ইঁদুর মেরে স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।

জানা যায়, আনোয়ার হোসেনের বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ভট্টপলাশী গ্রামে। প্রথমে শখের বসে ইঁদুর মারা শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। এরপর ইঁদুরের লেজ জমা দিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে পান পুরস্কার। এখন তাকে এলাকার সবাই 'ইঁদুর আনোয়ার' নামেই ডাকেন। ইঁদুর মেরে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। এখন ইঁদুর মারাকে তিনি পেশা ও নেশা হিসেবে নিয়েছেন।

আরো পড়ুন- দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে থেকেও ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রিশিল্প

আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫ বছর আগে যুবক বয়সে একদিন ধানের জমির মধ্যে থাকা ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান বের করেন অনোয়ার। পরে সেই ধান মুড়ি বিক্রেতার কাছে দিয়ে মুড়ি নেন। এরপর প্রায়ই তিনি ধানের জমিতে থাকা বিভিন্ন গর্ত থেকে ইঁদুরের লুকিয়ে রাখা ধান সংগ্রহ করে বিক্রি করতে থাকেন। এ সময় যেসব ইঁদুর গর্ত থেকে বের হতো সেগুলো মেরে ফেলতেন।

একদিন কৃষি কর্মকর্তা তাকে মরা ইঁদুরের লেজ স্থানীয় কৃষি অফিসে জমা দিতে বলেন। ইঁদুরের শতাধিক লেজ জমা দেওয়ার পর তাকে কিছু গম ও চাল সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। এরপর থেকে আনোয়ার ইঁদুর মারাকে পেশা হিসেবে নেন। দুই সন্তানের জনক আনোয়ার হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই রয়েছেন।

আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ভট্টপলাশী গ্রামের কৃষক আল মামুন, মিলন হোসেন, আব্দুস সামাদ জানান, শুধু আমন ধান না, আলু থেকে শুরু করে সব ধরনের ফসল নষ্ট করে ইঁদুর। আমন ধানের মৌসুমে ইঁদুরের অত্যাচার অনেক বেশি হয়। এ ফসলগুলো ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষ করছেন আনোয়ার ভাই।

আরো পড়ুন- জয়পুরহাটে বেগুনি ফুলকপি চাষে সফল দম্পতি

স্বামীর এসব কাজে সবসময় পাশে থেকে সহায়তা করেন স্ত্রী রুবি বেগম। তাদের সংসার ভালোই চলছে। এছাড়া বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়ায় নিজেকে ও পরিবারকে নিয়ে গর্ববোধ করেন আনোয়ার হোসেন। ২৫ বছর ধরে ইঁদুর মেরেছেন প্রায় চার লাখ। ২০০৪ সালে ২৩ হাজার ৪৫১টি ইঁদুর মারার জন্য পান জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার।

আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকার ৫৭ জনকে ইঁদুর ধরা ও মারার কৌশল শিখিয়েছি। এখন তারা যেকোনো কৃষক ডাকলে সাড়া দেন এবং তাদের ইঁদুর ধরেন। বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক পান তা দিয়ে সংসার চালান। সবাই তাকে ইঁদুর মারার ওস্তাদ হিসেবেই মানেন।

জেলা ছাড়াও অন্যান্য জেলার অনেককেই তিনি এ শিক্ষা দিয়েছেন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থকে এসে তার কাছে কিভাবে একাজ করতে হয় তা হাতে-কলমে দীক্ষা নেন।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. রাহেলা পারভীন জানান, দেশের কৃষকের ফসল রক্ষার্থে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান। অভিযানে এ পর্যন্ত একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছেন আনোয়ার হোসেন। তার মতো আরও আনোয়ার প্রতিটি জেলায় থাকলে কৃষকের ফসলহানীর পরিমাণ অনেকাংশে কমে যেত। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সবসময় তার সঙ্গে আছে এবং আগামীতেও থাকবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

বন্যার ধকল পেরিয়ে চট্টগ্রামে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬০ হেক্টরে আমন, লক্ষ্যের প্রায় শতভাগ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে চট্টগ্রামে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর লক্ষ্যের বিপরীতে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬০ হেক্টরে আমন রোপণ শেষ; কক্সবাজারে ৯৯ শতাংশ, ফেনীতে ৬৬ হাজার ৮৩৭ হেক্টর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর লক্ষ্য ছাড়িয়ে; অনুকূল বৃষ্টি, সময়মতো চারা ও বন্যা-পরবর্তী সরকারি সহায়তাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন কর্মক

বাসস২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

আবাদি জমির মাত্র ১২ শতাংশে বিশ্বের অর্ধেক ক্ষুদ্র কৃষকই ২০৫০-এ বাড়তি ১৫০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারেন: নতুন বই

‘হোল আর্থ ফার্মিং’ বইয়ে হাইতির স্মলহোল্ডার ফার্মার্স অ্যালায়েন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিউ লক (Hugh Locke) যুক্তি দিয়েছেন, গ্লোবাল সাউথের ৪৭ কোটি ৫০ লাখ ক্ষুদ্র খামারের প্রায় ২৪ কোটিকে পুনরুৎপাদনশীল কৃষি ও কৃষিবনায়নে নিলে ২০৫০ সালের বাড়তি খাদ্যচাহিদার পুরোটা মেটানো যাবে, মাটি ফিরবে, আর বছরে ০.৭২ গিগ

ডাউন টু আর্থ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

রেকর্ড শক্তিশালী এল নিনো আসছে, তবু অস্ট্রেলিয়ায় খরা অনিবার্য নয়: আবহাওয়া ব্যুরো

মডেল বলছে চলতি এল নিনো ১৯৮২–৮৩-কে ছাড়িয়ে যেতে পারে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৩ ডিগ্রির বেশি ওপরে উঠতে পারে; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মিটিওরোলজির ব্যাখ্যা, আপাতত নিরপেক্ষ ভারত মহাসাগর দ্বিমেরু, উষ্ণ সাগর ও দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নও বসন্ত-গ্রীষ্ম গড়ে দেবে; জলাধা

Beef Central২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()