বিশ্বের অন্যতম বড় কৃষিযন্ত্র নির্মাতা এজিসিও কর্পোরেশন (AGCO Corporation)-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এরিক পি. হ্যানসোশিয়া (Eric P. Hansotia) Farms.com-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খাদ্যের চাহিদা, জৈব জ্বালানি আর নতুন প্রযুক্তির কারণে কৃষি এক বড় উদ্ভাবনের পর্বে ঢুকছে, যার কেন্দ্রে নিখুঁত কৃষি (প্রিসিশন এগ্রিকালচার)।
হ্যানসোশিয়ার মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষির সম্ভাবনা উজ্জ্বল, কারণ বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ছে এবং বহু দেশে মানুষ বেশি মাংস খাচ্ছে, ফলে পশুখাদ্যের ফসলের চাহিদাও বাড়ছে। জৈব জ্বালানির আগ্রহও কিছু ফসলের বাজার বদলে দিচ্ছে। এই চাহিদা মেটাতে বাড়তি জমি, পানি বা সার ছাড়াই বেশি উৎপাদন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
ফেন্ট (Fendt)-সহ নিজস্ব ব্র্যান্ডের যন্ত্রের পাশাপাশি এজিসিও তার পিটিএক্স (PTx) ব্যবসার মাধ্যমে নিখুঁত কৃষিতে বড় বিনিয়োগ করেছে। পিটিএক্স যেকোনো ব্র্যান্ডের পুরোনো যন্ত্রে বসানোর মতো প্রযুক্তি তৈরি করে: স্বয়ংক্রিয় মাটির নমুনা সংগ্রহ, বপন, স্প্রে, নির্দিষ্ট জায়গায় প্রয়োগ, স্বয়ংক্রিয় চালনা, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি-সংক্রান্ত সমাধান।
উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রিসিশন প্ল্যান্টিংয়ের সিম্ফনিভিশন (SymphonyVision) প্রযুক্তির কথা বলেন, যা ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ফসল থেকে আগাছা আলাদা করে চিনে প্রতিটি আগাছার ওপর ঠিক সেই নজলটি চালু করে। এতে আগাছানাশকের ব্যবহার ও খরচ কমতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যতের যন্ত্রে এআই যুক্ত হবে, যাতে যন্ত্র মাঠের অবস্থা থেকে শিখে চালককে আরও কাজের পরামর্শ দিতে পারে, কারণ খামার ও চাষপদ্ধতি জায়গাভেদে খুব আলাদা।
যন্ত্রের বাইরেও এজিসিও এআই ব্যবহার করছে গ্রাহকসেবা দলের যন্ত্রের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করার কাজে। কৃষকের বিদ্যমান যন্ত্রবহরের সঙ্গে কোন যন্ত্র মানাবে, তা ঠিক করতেও এটি বিক্রয়কর্মীদের সাহায্য করতে পারে।
হ্যানসোশিয়া বলেন, তাঁদের বিশ্বাস আগামী ১০ বছর হবে কৃষির ইতিহাসে সবচেয়ে উদ্ভাবনী দশক। কৃষকেরা এখন নানা চাপে থাকলেও খাদ্য ও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা এবং নিখুঁত কৃষি ও এআইয়ের অগ্রগতি তাঁদের ঝুঁকি সামলাতে ও খামার আরও উৎপাদনশীল করতে সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করেন।
ছবি: ERIC FORGET / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com



মন্তব্য
(০)