উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে কৃষিপ্রযুক্তি (এগ্রিটেক) খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ গেছে ভারতে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত দেশটি পেয়েছে ২১০ কোটি ডলার, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের তিন গুণের বেশি। এগবেসের (AgBase) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গেটস ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের সহায়তাপুষ্ট এগবেস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ব্রিটার ও মার্সি কোর এগ্রিফিনের সঙ্গে। "এগটেক ইনভেস্টমেন্ট ইন ইমার্জিং মার্কেটস ২০২৫" নামের প্রতিবেদনে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৭ দেশের ৭০০-র বেশি কোম্পানির ৯০০-র বেশি চুক্তিতে ৪৩৯ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। ভারত ও ব্রাজিলের (৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার) পরে আছে ইন্দোনেশিয়া (৪৫ কোটি ৩১ লাখ), কেনিয়া (২৮ কোটি ১৩ লাখ) ও সিঙ্গাপুর (২৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলার)।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২১-২০২৩ সালের বিনিয়োগ সংকোচন থেকে স্টার্টআপ খাত ঘুরে দাঁড়ালেও এগ্রিটেক পিছিয়ে আছে। ভারতের এগিয়ে থাকার কারণ হিসেবে উন্নত পুঁজিবাজার এবং ডিজিটাল কৃষি মিশন ও অ্যাগ্রিস্ট্যাকের মতো নীতির কথা বলা হয়েছে। দাতানির্ভর পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে জাতীয় ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার দিকে সরকারগুলোর যে ঝোঁক, এগুলো তারই অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি "ফিজিটাল" মডেলের, অর্থাৎ শুধু অ্যাপ নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে মাঠকর্মী, পরিবহন ও হিমাগার মিলিয়ে চলা ব্যবসা, যারা কৃষকের কাছ থেকে ফি না নিয়ে মূল্য শৃঙ্খলের পরের ধাপ থেকে আয় করে। এসপি ভেঞ্চার্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ফ্রান্সিসকো জার্দিম (Francisco Jardim) বলেন, বড় পরিসরের ব্যবসা গড়তে কৃষকের বাইরে থেকে আয় করতে হবে।
উদীয়মান বাজারে চুক্তির আকার এখনো ছোট। দক্ষিণ এশিয়ায় চুক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং বিনিয়োগমূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ ইকুইটি। বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পথই সবখানে বড় বাধা, যদিও দক্ষিণ এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল যেখানে বারবার ব্যবহারযোগ্য পথ আছে। লেখকেরা সতর্ক করেছেন, সব উদীয়মান বাজারকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক নয়। পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রতিটি বাজারের নিজস্ব বাধা চিহ্নিত করতে বলেছেন তাঁরা।
সূত্র: Global Agriculture




মন্তব্য
(০)