দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড ভুট্টার ফসল পশু ও পোলট্রি উৎপাদকদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, তবে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, জ্বালানির বাড়তি দাম ও অন্য উপকরণের চাপ সস্তা ভুট্টার সুবিধা খাদ্যের দামে কতটা পৌঁছাবে, তা সীমিত করতে পারে। Absa (অ্যাবসা)-র 'অ্যাগ্রিট্রেন্ডস স্প্রিং ২০২৬' সংস্করণের প্রত্যাশা, রেকর্ড উৎপাদন ও বড় ক্যারিওভার মজুতে বিপণন মৌসুমের বাকি সময় ভুট্টার বাজার পর্যাপ্তভাবে সরবরাহকৃত থাকবে, স্বল্পমেয়াদে দামের ঊর্ধ্বচাপ সীমিত থাকবে; নজর এখন ২০২৬/২৭ মৌসুমের আবহাওয়া-ঝুঁকিতে।
Epol (এপল)-এর ফিড পরিচালক Anina Hunter (আনিনা হান্টার) বলেন, রেকর্ড ফসল অনুকূল সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য তৈরি করেছে: "ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্য-উপাদানের প্রাপ্যতা বেশি থাকলে খাদ্য প্রস্তুতকারকদের উপকরণ খরচ কমে, আর তাতে পশু উৎপাদকেরা কিছুটা স্বস্তি পান।" তবে তাঁর সতর্কবার্তা, ভুট্টার কম দাম তৈরি খাদ্যের দামে সমান হারে নামে না—প্রস্তুতকারকদের অন্য কাঁচামাল, সংগ্রহ, উৎপাদন ও পরিবহনের খরচও বহন করতে হয়, আর পণ্যবাজার অস্থির। পশু উৎপাদকের উপকরণ খরচের প্রায় ৭০ শতাংশই খাদ্য; নরম পণ্যদাম গত অর্থবছরেই খাদ্যের বিক্রয়মূল্য কমিয়েছে।
পোলট্রি উৎপাদক ও কসাইখানার মালিক Jeremiah Jotham (জেরেমায়া জোথাম) বলেন, উদ্বৃত্ত সাধারণত খাদ্যের দামে বড় পতনের ইঙ্গিত দিত: "এল নিনোর পূর্বাভাস আর খরার ইঙ্গিত না থাকলে খাদ্যের খরচে খুব নাটকীয় পতন দেখার কথা।" কিন্তু খরা এলে খামারিদের মজুত গড়তে হতে পারে, আর জ্বালানির চড়া দাম উৎপাদন খরচে যোগ হচ্ছে; তাই তাঁর ধারণা, খরার তীব্রতা অনুযায়ী খাদ্যের দাম বর্তমান স্তরে থাকবে বা সামান্য বাড়বে—এটি বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়, ব্যক্তিগত মূল্যায়ন বলে তিনি জোর দেন।
জোথামের যুক্তি, পোলট্রি খামার, কসাইখানা, রেন্ডারিং প্ল্যান্ট ও ফিড মিলকে এক শৃঙ্খলে বাঁধলে ছোট উৎপাদকদের হিসাব বদলে যাবে—কসাইখানার রক্তের মতো বর্জ্য ব্লাড মিল হয়ে খাদ্যে ফিরবে: "কসাইখানার সব বর্জ্য রেন্ডারিং প্ল্যান্টে, সেখান থেকে ফিড মিলে গেলে আমাদের কিনতে হবে হয়তো শুধু ভুট্টা।" বিশ্ববাজারের দামে ভুট্টা আমদানি করা বাংলাদেশের ফিড ক্রেতাদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার এই উদ্বৃত্ত সেই বৈশ্বিক সরবরাহেরই অংশ, যা এ বছর খাদ্যশস্যের দাম নরম রেখেছে।
ছবি: Lotus Head / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)