যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের কলেজছাত্র আব্দুর রহমান বাড়ির ছাদে কৃত্রিম জলাধার বানিয়ে ঝিনুকে মুক্তা চাষ করছেন। ছাদের জলাধারে এখন প্রায় দুই হাজার ঝিনুক আছে, আর অভয়নগরের নাউলী গ্রামে বোনের বাড়ির পুকুরে আছে আরও সাড়ে তিন হাজার। তাঁর দেখাদেখি এলাকার আরও কয়েকজন বেকার তরুণ এ কাজে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি সময়।
রহমান ২০২১ সালে করোনাকালে ফেসবুকে দেখে মুক্তা চাষের কথা ভাবেন। হাতে-কলমে শিখতে নওগাঁ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও ঝিনাইদহের কয়েকটি মুক্তা খামার ঘুরে দেখেন। সেই বছরের নভেম্বরে বাড়ির পাশের ছোট পুকুরে কয়েকটি ঝিনুক দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন। সাফল্য পাওয়ার পর জায়গার টান পড়ায় ছাদকে কাজে লাগান।
পদ্ধতিটি এমন: বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঝিনুকের ভেতরে নিউক্লিয়াস বা ডাইস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তা ঘিরেই তৈরি হয় মুক্তা; ডাইসের আকার বদলে মুক্তার আকৃতি ও নকশাও বদলানো যায়। একটি ঝিনুকের মুক্তা পরিপক্ব হতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস লাগে। ছাদের জলাধারে তিনি রঙিন মাছও পালছেন।
মান ও নকশাভেদে তাঁর একেকটি মুক্তা সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়; দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি ও ডিজাইন প্রতিষ্ঠান কিনছে। রহমানের হিসাবে, ২ লাখ টাকার মুক্তা উৎপাদন ও বিক্রিতে তাঁর খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বাবার পাশাপাশি চার-পাঁচজন কর্মী ঝিনুক সংগ্রহ, নিউক্লিয়াস তৈরি, নকশা ও জাল তৈরির কাজ করেন; মজুরি দেওয়া হয় উৎপাদনের ভিত্তিতে।
সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেলে উদ্যোগটি বড় করতে চান রহমান, ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনাও আছে। অভয়নগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সর্দার বলেন, বাড়ির ছাদে ঝিনুক থেকে মুক্তা উৎপাদনের উদ্যোগটি ব্যতিক্রম; সঠিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এমন উদ্যোগ বেকার তরুণদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের যশোর সংবাদদাতার।
ছবি (প্রতীকী): পুকুরে লালন করা ঝিনুক। ছবি: Robert Ervin Coker / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)