পুরান ঢাকার জনসন রোডে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তিনতলা ভবনের ছাদ এতদিন ফাঁকাই পড়ে ছিল। প্রায় ১১ হাজার বর্গফুটের সেই ছাদে এখন ফুল-ফলের গাছ, পাখির পানি খাওয়া ও গা ভেজানোর ছোট জলাধার আর বাঁশের কৃত্রিম ঝোপ। ‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানে গড়া এই ছাদবাগানের নাম ‘আকাশনীড়’।
জেলা প্রশাসন ও নগর সবুজায়নে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রিন সেভার্সের তথ্য অনুযায়ী, ছাদে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৯টি ফুলের গাছ, যেমন বাগানবিলাস, রঙ্গন, টগর, হাসনাহেনা, মধুমালতী, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বকুল, কাঠগোলাপ, ছাতিম ও নাগলিঙ্গম; জলজ ফুলের মধ্যে শাপলা ও পদ্ম। লিচু, কামরাঙা, সফেদা, আম, পেয়ারা, জামরুল, লটকন, আমড়া, লেবু, বরই, কলা ও পেঁপেসহ ফলের গাছ ৪১টি, আছে নিমগাছ আর কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করে এমন কিছু শোভাবর্ধক গাছ।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বাগানটি উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সহায়তায় এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। গ্রিন সেভার্স তিন মাস বাগান দেখাশোনা করবে, তারপর দায়িত্ব নেবেন কার্যালয়ের কর্মীরা।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ছাদে গিয়ে পুরোটা ফাঁকা দেখে এবং আকাশে পাখি উড়তে দেখে তার মাথায় এ ভাবনা আসে। "শহুরে ইটপাথরের নগরীতে সেই কিচিরমিচির হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ডাক নগরে ফিরিয়ে আনার জন্যই এই উদ্যোগ," বলেন তিনি। বাইরের পাখিদের আকৃষ্ট করতে ছাদে খাঁচায় কিছু পাখিও রাখা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছাদে কোনো পাখির দেখা মেলেনি, তবে একটি বানর নির্ভয়ে হেঁটে গেছে। কর্মীদের ধারণা, গাছ এখনো তেমন বড় হয়নি, ফলও কম, আর মানুষের উপস্থিতিতে পাখিরা ভয় পাচ্ছে। পরদিন কার্যালয়ের পাঠানো ভিডিওতে অবশ্য দেখা গেছে, আশপাশ থেকে কিছু পাখি এসে ছাদে খাবার খাচ্ছে।
গ্রিন সেভার্সের প্রধান নির্বাহী আহসান রনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ছাদবাগান, আর এর মূল বার্তা হলো নগরবাসী চাইলেই ছাদবাগানকে পাখির অভয়ারণ্য বানাতে পারেন। জেলা প্রশাসকের মতে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ে ভবনের ছাদে এমন সবুজায়ন করা গেলে শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর মানসুরা হোসাইন।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)