প্রাণিখাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সোমবার তিনি বলেন, খাদ্যের দাম কমাতে এ খাতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ আগেই নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সপ্তাহটি ২৬ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে উদযাপনের কথা ছিল।
ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি, দুধেল গাভি, মাংসের গরু, ছাগল কিংবা চাষের মাছ, সব খামারেই একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বড় খরচ খাদ্য। উপদেষ্টার হিসাবে খামারিদের খরচের ৭০ শতাংশই যায় প্রাণিখাদ্যের পেছনে, এর ওপর আছে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ। তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন সময়ে, যার দুই মাস আগে খামারিদের সংগঠন প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিল যে খাদ্যের প্রধান দুই কাঁচামাল ভুট্টা ও সয়াবিন খইলের দাম কমলেও খাদ্যের দাম চড়াই রয়ে গেছে।
খাদ্যের দাম নিয়ে উপদেষ্টা যা বললেন
প্রাণিখাদ্যের দাম কীভাবে কমানো যায়, এ প্রশ্নে উপদেষ্টা শুরু করেন খামারের খরচের হিসাব দিয়ে। তিনি বলেন, খামারিদের ৭০ শতাংশ খরচ হয় প্রাণিখাদ্যের পেছনে, আর এর ওপরে আছে বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য বিষয়। তাই সরকারের প্রথম পদক্ষেপ ছিল বিদ্যুতে। তাঁর ভাষায়, 'আমরা বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। সেটা অনেকখানি এগিয়ে গেছে। আমরা আশা করি এটা কমাতে পারব।'
খরচ কমলে খামারির কাছে খাদ্যের দামও কমবে বলে যুক্তি দেন তিনি। 'খরচ কমে গেলে অটোমেটিকলি মূল দাম কমে যাবে। খাবারের দাম কমানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি,' বলেন উপদেষ্টা। বিদ্যুৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত কবে আসবে বা এ খাতের বিদ্যুতের দাম কতটা কমতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তারিখ বা অঙ্ক জানাননি, প্রতিবেদনেও পরিকল্পিত হ্রাসের কোনো হিসাব ছিল না।
ভুট্টার দাম কমলেও খাদ্যের দাম কমেনি
এরপর সাংবাদিকেরা উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে ভুট্টার দাম কমার পরও পোলট্রি ফিডের দাম এক পয়সাও কমানো হয়নি। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ফিড ইন্ডাস্ট্রির লোকজন অনেক সময় নিজেদের মতো করে দাম রাখে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে নীতিমালা তৈরি করে দিতে হবে, আর সেখানে থাকবে দাম তারা কোন পর্যন্ত রাখতে পারবে। 'আমরা মনে করি এটাকে একটা রেগুলেশনের মধ্যে আনতেই হবে,' বলেন তিনি।
নীতিমালাটি কোন আকারে হবে, দামের ঊর্ধ্বসীমা, দাম নির্ধারণের সূত্র নাকি তদারকির ব্যবস্থা, কিংবা কবে এর খসড়া হবে, তা তিনি বলেননি। বর্তমান সরকার এ খাতে অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, আগামী সরকার এটা এগিয়ে নেবে এবং সেই সরকারের প্রথম দিকেই মানুষ এর ফল দেখতে পাবে; কোনো সরকারের পক্ষেই এসব কাজ একদিনে করা সম্ভব নয়।
খামারি ও খাদ্য প্রস্তুতকারকেরা আগে যা বলেছিলেন
উপদেষ্টাকে করা প্রশ্নটি কয়েক সপ্তাহ ধরে সংবাদমাধ্যমে চলা একটি বিতর্কেরই প্রতিধ্বনি। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ভুট্টার রেকর্ড ফলন এবং গুদামে বিপুল সয়াবিন খইল মজুত থাকা সত্ত্বেও প্রাণী ও পোলট্রি খাদ্যের দাম চড়া রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে পত্রিকাটি লেখে, ভুট্টা ও সয়াবিন খইলের দাম তখন পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শীর্ষস্থানীয় ফিড কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ করেন। তিনি পত্রিকাটিকে বলেন, ভুট্টার দাম ২০ শতাংশ এবং সয়াবিন খইলের দাম ৭০ শতাংশ কমলেও খাদ্যের দাম বদলায়নি; তাঁর অভিযোগ, কোম্পানিগুলো স্বাভাবিক মুনাফার ওপর কেজিতে বাড়তি ১০ টাকা লাভ করছে। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর কোম্পানিগুলো দাম অনেক বাড়িয়েছিল, পরে আর কমায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী তখন পোলট্রি খাদ্যের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭৫ টাকা, মাছের খাদ্য ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং ডেইরি খাদ্য ৬৫ থেকে ৮০ টাকা।
একই প্রতিবেদনে খাদ্য প্রস্তুতকারকেরা তাঁদের বক্তব্য দেন। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফআইএবি) একজন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বলেন, কাঁচামালের বড় অংশ এখনো আমদানি করতে হয়, আর আমদানিতে নতুন ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ডলারের দর বৃদ্ধি ও ব্যাংক সুদের বাড়তি খরচের কারণে দাম আরও কমানো কঠিন। এফআইএবির হিসাবে ৩০০টির বেশি কারখানা দেশের খাদ্যের চাহিদার ৯৯ শতাংশ মেটায়, আর এই বাজারের বার্ষিক আকার ৪০ হাজার কোটি টাকা।
চাহিদার মাত্রা কতটা, তা একই প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা তুলে ধরেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক বলেন, দেশে ৪৫ কোটির বেশি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ রয়েছে, যার বেশির ভাগ খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং বছরে মোট প্রায় ৬০ লাখ টন খাদ্য খায়। মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে বছরে ২৬ লাখ টনের বেশি চাষের মাছ উৎপাদিত হয়, যার জন্য প্রায় ১০ লাখ টন খাদ্য লাগে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একজন কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, দেশে উৎপাদিত ভুট্টা ও সয়াবিন খইল এখন কাঁচামালের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি মেটায়; তিনি কোম্পানিগুলোকে দাম সমন্বয় করতে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।

খাদ্যশিল্প কত বড়, এক বস্তায় কী থাকে
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ঢাকা দপ্তর ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশের 'গ্রেইন অ্যান্ড ফিড অ্যানুয়াল' প্রতিবেদনে এই শিল্পের বিবরণ দেয়। ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫০টি ফিড কোম্পানি মিলে বছরে ৭৫ লাখ টন বাণিজ্যিক খাদ্য উৎপাদন করে, আর বহু অনিবন্ধিত কোম্পানি মিলে উৎপাদন করে আরও প্রায় ৫ লাখ টন। মোট খাদ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ পোলট্রি খাদ্য, বাকিটা মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী পোলট্রি খাদ্য মূলত ভুট্টানির্ভর, আর মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যে কিছু ভুট্টার সঙ্গে সয়াবিন মিল ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য প্রচলিত উপাদানের মধ্যে আছে ফিশমিল, ডিডিজিএস (ডিস্টিলার্স ড্রায়েড গ্রেইনস উইথ সলিউবলস), এক্সট্রুডেড ফুল-ফ্যাট সয়াবিন, খুদ, রাইস পলিশ, সরিষা বা রেপসিড মিল, কর্ন গ্লুটেন মিল, মোটা দানার চুনাপাথর ও তেল-নিষ্কাশিত চালের কুঁড়া। কোম্পানিগুলো পোলট্রি, মাছ ও দুগ্ধখামারের গরুর জন্য নিজস্ব ফর্মুলা তৈরি করে, আর উপাদানের দাম ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনুপাত বদলায়। খাদ্যশিল্প-সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যে বাণিজ্যিক খাদ্যে উপাদানগুলোর সাধারণ অনুপাত ছিল এমন:
- ভুট্টা: পোলট্রি খাদ্যের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ, মাছের খাদ্যের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ
- সয়াবিন মিল: পোলট্রি খাদ্যের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, মাছের খাদ্যের ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ
- তেল-নিষ্কাশিত চালের কুঁড়া: পোলট্রি খাদ্যের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ, মাছের খাদ্যের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ
- ডিডিজিএস: পোলট্রি খাদ্যের ৫ থেকে ১০ শতাংশ, মাছের খাদ্যের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ
- রাইস পলিশ বা কুঁড়া: দুই ধরনের খাদ্যেই ৫ থেকে ১০ শতাংশ
- গমের আটা: পোলট্রি খাদ্যের ৩ থেকে ৫ শতাংশ, মাছের খাদ্যের ৫ থেকে ৮ শতাংশ
- ফিশমিল: পোলট্রি খাদ্যের ২ থেকে ৫ শতাংশ, মাছের খাদ্যের ৮ থেকে ২০ শতাংশ
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অনেক লেয়ার খামার স্থানীয়ভাবে কেনা ভুট্টা ও প্রিমিক্স দিয়ে নিজেরাই খাদ্য তৈরি করে, আর ছোট ও মাঝারি দুগ্ধখামারের বেশির ভাগ বাণিজ্যিক দানাদার খাদ্যের চেয়ে হাতে তৈরি খাদ্য পছন্দ করে। দাম প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে আগের বছরের তুলনায় দাম সামান্য কমেছে, যার পেছনে ছিল ডলারের তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার এবং প্রধান উপাদানগুলোর আন্তর্জাতিক দামের স্থিতিশীলতা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পোলট্রি খাদ্য বিক্রি হয় টনপ্রতি ৫৬ হাজার থেকে ৬২ হাজার টাকায়, যা এক বছর আগের চেয়ে ৬ শতাংশ কম; মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যের দাম ছিল টনপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

দামের পেছনের শস্য ভুট্টা
ইউএসডিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী আবাদি জমি ও উৎপাদন দুই দিক থেকেই ভুট্টা ধানের পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দানাশস্য, আর উৎপাদিত ভুট্টার প্রায় ৯০ শতাংশ যায় খাদ্যশিল্পে, বাকিটা স্টার্চ তৈরিতে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বোনা এবং মার্চ-এপ্রিলে তোলা শীতকালীন ভুট্টা থেকে আসে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৫ শতাংশ; গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা বোনা হয় মার্চ-এপ্রিলে, তোলা হয় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি ২০২৪/২৫ বিপণন বছরের ফলন ধরেছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ৫৭ লাখ টন।
প্রধান চাষ-এলাকা উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলো: লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, জামালপুর, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ। কিছু উপকূলীয় জেলা এবং নদীতীর ও চরাঞ্চলেও এর চাষ ছড়িয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী কৃষকেরা হাইব্রিড জাত ব্যবহার করেন, যা সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরে ১০ টনের বেশি ফলন দিতে পারে, আর ফল আর্মিওয়ার্ম এর প্রধান ক্ষতিকর পোকা।
বাংলাদেশ বিদেশ থেকেও ভুট্টা কেনে। ইউএসডিএর ঢাকা দপ্তর ২০২৪/২৫ বিপণন বছরে আমদানি ধরেছিল ১৬ লাখ টন, যার বেশির ভাগ ব্রাজিল থেকে; ভারতকে ছাড়িয়ে ব্রাজিল তখন প্রধান সরবরাহকারী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খাদ্যশিল্পকে সহায়তা দিতে সরকার ভুট্টা আমদানির সব শুল্ক তুলে দিয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভুট্টার কেজি ছিল পাইকারিতে ৩৪ টাকা ৪৯ পয়সা এবং খুচরায় ৩৮ টাকা ৪৭ পয়সা।
ফসল তোলার পর শরতে দাম আরও কমে আসে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, মে-জুনের মৌসুমে ভুট্টা বিক্রি হয়েছে কেজি ২০ থেকে ২৬ টাকায় এবং সেপ্টেম্বরে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়, যেখানে এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। একটি ভোজ্যতেল কোম্পানির পরিচালক পত্রিকাটিকে বলেন, সয়াবিন খইলের কেজি ২০২৪ সালের ৬৫ থেকে ৭০ টাকা থেকে নেমে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকায় এসেছে; আর পরিশোধনকারীদের সংগঠনের হিসাবে সয়াবিন ও রেপসিড খইলের উৎপাদন ৪০ লাখ টন ছাড়িয়েছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ২২ লাখ টন। কাঁচামাল আর খাদ্যের দামের এই ফারাকের কথাই সাংবাদিকেরা উপদেষ্টার সামনে তোলেন।
খাদ্য নিয়ে যে আইন আগে থেকেই আছে
বাংলাদেশে প্রাণিখাদ্য নিয়ন্ত্রিত হয় মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২ নং আইন) দিয়ে, যা ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রণীত হয় এবং ২০০৮ সালের একটি অধ্যাদেশের জায়গা নেয়। আইনে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৎস্যখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এর প্রধান বিধানগুলো হলো:
- লাইসেন্স ছাড়া কেউ মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণ করতে পারবেন না (ধারা ৪); লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর, এরপর নবায়ন করতে হয় (ধারা ৭)।
- বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত খাদ্যের উপাদানের আদর্শমাত্রা সরকার বিধি দিয়ে নির্ধারণ করবে এবং তা মানা বাধ্যতামূলক; খাদ্য আদর্শমাত্রায় না পৌঁছালে বা ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেলে প্রস্তুতকারকের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে (ধারা ১০)।
- আমদানি করা বা দেশে উৎপাদিত খাদ্যের নমুনা যেকোনো পর্যায়ে সংগ্রহ করে মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানো যাবে (ধারা ১১)।
- খাদ্য বাজারজাত করতে হবে বায়ুনিরোধ মোড়কে, যার গায়ে থাকবে প্রস্তুতকারকের নাম ও দেশ, নিবন্ধন নম্বর, প্রকৃত ওজন, উপাদান ও পুষ্টি উপাদানের নাম ও শতকরা হার, লট নম্বর, কোন জাতের মাছ বা পশুর খাদ্য এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ (ধারা ১৩)।
- মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না (ধারা ১৪)।
- অপরাধের দণ্ড অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড, অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড (ধারা ২০)।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আইন-বিধির তালিকা অনুযায়ী এই আইনের অধীনে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশুখাদ্য বিধিমালা, ২০১৩ জারি হয়। আইনটি লাইসেন্স, মান, মোড়কের তথ্য ও নিষিদ্ধ উপাদান নিয়ে; খাদ্যের দাম কত হবে, সে বিষয়ে এতে কোনো বিধান নেই। উপদেষ্টা যখন নতুন নীতিমালার মাধ্যমে দামকে 'রেগুলেশনের মধ্যে' আনার কথা বলেন, তখন এই ফাঁকটির কথাই উঠে আসে।
সংখ্যায় প্রাণিসম্পদ খাত
একই সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা খাতটির আকারও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থির মূল্যে জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে এর অবদান ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ; অর্থমূল্যে প্রাণিসম্পদ জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। তাঁর ভাষায়, খাতটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখছে এবং কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তায় এক ক্রমবর্ধমান শক্তি।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মূলত জনগণের জন্য ডিম, দুধ ও মাংসের নিরাপদ যোগান নিশ্চিত করতে কাজ করে, তাই পোলট্রি, ডেইরি এবং মাংস উৎপাদনশীল গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির উন্নয়ন এর প্রধান লক্ষ্য। গার্মেন্টস শিল্পের পর পোলট্রি শিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের খাত, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দেশে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ২২৭টি বাণিজ্যিক এবং প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার পোলট্রি খামারের মাধ্যমে বিগত দশকে বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডিম উৎপাদিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধিদপ্তরের নিজস্ব পরিসংখ্যান আরও বড় চিত্র দেয়। ইউএসডিএ দপ্তর যে সংস্করণটি উদ্ধৃত করেছিল, সেই 'লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৩-২৪' অনুযায়ী দুধের উৎপাদন ছিল ১৫০ দশমিক ৪৪ লাখ টন, চাহিদা ১৫৮ দশমিক ৭৮ লাখ টন; মাংসের উৎপাদন ৯২ দশমিক ২৫ লাখ টন, চাহিদা ৭৬ দশমিক ২১ লাখ টন; আর ডিমের উৎপাদন ২ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৯৭ কোটি, চাহিদা ১ হাজার ৮০৯ দশমিক ৬০ কোটি। একই প্রকাশনায় দেশে ২৫০ দশমিক ১৩ লাখ গরু, ১৫ দশমিক ২৪ লাখ মহিষ, ৩৯ দশমিক ০৩ লাখ ভেড়া, ২৭১ দশমিক ১৭ লাখ ছাগল, ৩ হাজার ২৭৭ দশমিক ৭৭ লাখ মুরগি এবং ৬৮২ দশমিক ৬১ লাখ হাঁসের হিসাব দেওয়া হয়; প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানে প্রাণিসম্পদের অংশ ধরা হয় ২০ শতাংশ এবং আংশিক কর্মসংস্থানে ৫০ শতাংশ।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী অধিদপ্তরটির যাত্রা ১৮৯৩ সালে, ব্রিটিশ শাসনামলে গঠিত সিভিল ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে; দেশভাগের পর এটি পূর্ব পাকিস্তানের পশুপালন পরিদপ্তর হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে নাম হয় প্রাণিসম্পদ পরিদপ্তর; এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার ফার্মগেটে। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেয়ার জাত হোয়াইট লেগহর্ন, যার মুরগি বছরে প্রায় ২৩০টি ডিম দিতে পারে। এমন উচ্চ উৎপাদনশীল মুরগি প্রতিদিন মিশ্র খাদ্য খায়, আর সে কারণেই ডিম ও ব্রয়লার খামারিদের কাছে খাদ্যের দাম এত বড় বিষয়।

প্রথমবারের মতো জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ
সংবাদ সম্মেলনটি ডাকা হয়েছিল জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫-এর কর্মসূচি জানাতে। বাসসের সেদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী 'দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি' প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশে প্রথমবারের মতো এই সপ্তাহ উদযাপনের আয়োজন করা হয়। ২৬ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে এটি পালনের কথা ছিল, যেখানে থাকবে প্রাণিসম্পদ পদক প্রদান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, র্যালি, আলোচনা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রদর্শনী।
সপ্তাহটির ইতিহাস ছিল সংক্ষিপ্ত। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর বাসস জানায়, মন্ত্রণালয় নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে; এর আগে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর সরকার প্রতিবছর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়কে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ হিসেবে উদযাপনের নীতিগত অনুমোদন দেয়। উদ্দেশ্য ছিল খাতটির গুরুত্ব তুলে ধরা, অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর বাসসের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জাতীয় প্রাণিসম্পদ পদক ২০২৫ বিতরণের কথা ছিল, একই দিনে ঢাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ও ফুড ফেস্টিভ্যাল। ২৭ নভেম্বর সড়ক র্যালি এবং খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে সেমিনার, ২৮ নভেম্বর গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার, ২৯ নভেম্বর প্রাণিজ পণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা সভা, ৩০ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ প্রচার এবং ১ ডিসেম্বর তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নির্ধারিত ছিল; ২ ডিসেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে সমাপনী। জেলা ও উপজেলায় প্রদর্শনী, র্যালি এবং গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বিনা মূল্যে টিকাদান ও ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজনের কথাও ছিল।
উপদেষ্টা জানান, জাতীয় প্রাণিসম্পদ পদক নীতিমালা অনুযায়ী ৫টি ক্যাটাগরিতে ১৫টি পদক দেওয়া হবে; প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী পাবেন যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক।
টিকাদান কর্মসূচি ও মাংস রপ্তানি
উপদেষ্টার বক্তব্যের শেষ অংশজুড়ে ছিল রোগ নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, সম্প্রতি উদ্ভূত গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৭ লাখ মাত্রা টিকা মাঠ পর্যায়ে দেওয়ার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ক্ষুরা রোগ (এফএমডি) নির্মূলে মুক্ত অঞ্চল বা জোনিংয়ের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ ও ভোলায় টিকাদান চলছে। আর ছাগলের মারাত্মক সংক্রামক রোগ পিপিআর নির্মূলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৬ কোটি ডোজ টিকা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়েছে।
বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) জানায়, লাম্পি স্কিন ডিজিজ ক্যাপ্রিপক্স গোত্রের ভাইরাসজনিত রোগ, যা কেবল গরু ও মহিষকে আক্রান্ত করে। এতে জ্বর ও চামড়ায় শক্ত গুটি হয়, সাধারণত মাথা, ঘাড় ও ওলানে; সঙ্গে দুধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, ওজন কমে, প্রজননক্ষমতা কমে এবং চামড়া নষ্ট হয়। আক্রান্তের হার সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ, মৃত্যুহার সাধারণত ১ থেকে ৫ শতাংশ। ধারণা করা হয়, রোগটি মূলত কামড়ানো মাছি, মশা ও আঠালির মাধ্যমে ছড়ায়, আর দূরে ছড়ায় আক্রান্ত পশুর চলাচল ও বেচাকেনার মাধ্যমে। সংস্থাটির মতে এটি মানুষের জন্য ঝুঁকি নয়; ২০০০ সালের পর যেসব অঞ্চলে রোগটি দেখা গেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও সংস্থাটি উল্লেখ করে।
ডব্লিউওএএইচের বর্ণনায় ক্ষুরা রোগ গরু, শূকর, ভেড়া, ছাগলসহ জোড়া-খুরের প্রাণীর মারাত্মক ও অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার ভাইরাসের সাতটি সেরোটাইপ রয়েছে। এতে জ্বর হয়, জিহ্বা, ঠোঁট, মুখ, বাঁট ও পায়ে ফোসকার মতো ঘা দেখা দেয় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়; প্রাপ্তবয়স্ক পশুর ক্ষেত্রে এটি কদাচিৎ প্রাণঘাতী হলেও বাচ্চা পশুর মৃত্যুহার প্রায়ই বেশি। ভাইরাসটি নিঃশ্বাস, দুধ, বীর্যসহ সব নিঃসরণে থাকে, ছড়ায় যানবাহন, খাদ্য, পোশাক ও সরঞ্জামের মাধ্যমেও। ক্ষুরা রোগই প্রথম রোগ, যার ক্ষেত্রে ডব্লিউওএএইচ রোগমুক্ত অবস্থার সরকারি স্বীকৃতি চালু করে; কোনো দেশ পুরো ভূখণ্ডের জন্য বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য এই স্বীকৃতি পেতে পারে, আর উপদেষ্টার বর্ণিত জোনিং কার্যক্রমের ভিত্তি এটিই।
ডব্লিউওএএইচ জানায়, পিপিআর হয় রিন্ডারপেস্ট ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় একটি মরবিলিভাইরাসে, আর এটি ছাগল, ভেড়া, এদের কিছু বন্য আত্মীয় প্রজাতি ও উটকে আক্রান্ত করে। ১৯৪২ সালে আইভরি কোস্টে প্রথম শনাক্ত রোগটি এখন এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৭০টির বেশি দেশে রয়েছে। আক্রান্ত পশুর তীব্র জ্বর হয়, চোখ ও নাক দিয়ে নিঃসরণ ঝরে, মুখে বেদনাদায়ক ঘায়ের কারণে খেতে পারে না, সঙ্গে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া হয়, এবং মৃত্যুই প্রায়ই পরিণতি। আজীবন সুরক্ষা দেয় এমন টিকা রয়েছে, আর ২০১৫ সালে অনুমোদিত এক কৌশলের আওতায় ডব্লিউওএএইচ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পিপিআর নির্মূলের লক্ষ্য ঠিক করেছে।

উপদেষ্টা টিকাদান কর্মসূচিকে রপ্তানির সঙ্গেও যুক্ত করেন। তিনি বলেন, মাংস রপ্তানির জন্য সৌদি আরব একটি বড় বাজার, কিন্তু এলএসডি থাকলে সৌদি আরব মাংস নেয় না। 'মাংসের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমরা আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রমটাকে আরও জোরদার করতে চাই,' বলেন তিনি।
ছবি: Khairuzzaman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (বাসসের প্রতিবেদন, ২৪ নভেম্বর ২০২৫); বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ১২ অক্টোবর ও ১৮ নভেম্বর ২০২৫; দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫; ইউএসডিএ ফরেন অ্যাগ্রিকালচারাল সার্ভিস, বাংলাদেশ গ্রেইন অ্যান্ড ফিড অ্যানুয়াল ২০২৫; প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৩-২৪ ও আইন-বিধির তালিকা; মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০; বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ); বাংলাপিডিয়া।




মন্তব্য
(০)