মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলে আসা পাটের হাটে প্রতি বুধবার কোটি টাকার কেনাবেচা হয়। ব্রিটিশ আমল থেকে বসা এই হাটে হাজার হাজার মণ পাট আসে, আর পাইকারেরা তা কিনে পাঠান নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও যশোরের পাটকলে। এবার চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন, তবে নানা সমস্যায় হাটটি আগের জৌলুস হারাচ্ছে।
ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীর কাছে গড়ে ওঠা হাটের পাশে একসময় ছোট নদীবন্দর ছিল। মানিকগঞ্জ ছাড়াও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও পাবনা থেকে বড় নৌকায় পাট আসত। যোগাযোগব্যবস্থা ও বাজারের ধরন বদলে নানা জায়গায় নতুন হাট হওয়ায় এখানে সরবরাহ কমেছে, আর নদীভাঙনে হাটের জায়গাও কমছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী অসীম রায় জানান, এ অঞ্চলে তোষা ও সাদা পাটের আবাদ বেশি। গত হাটে প্রায় ৮০ টন পাট বেচাকেনা হয়েছে, মানভেদে মণ এখন ৪,৬০০ থেকে ৫,৩০০ টাকা; গত বছর ভালো পাটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪,৫০০ টাকা। ১৯৮৬ সাল থেকে ব্যবসায় থাকা উত্তম আইচ বলেন, একসময় নৌকায় করে ৭০০ থেকে এক হাজার মণ পাট কেনা হতো, এখন আবাদ কমায় আগের মতো মেলে না, তবু প্রতি বুধবার গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মণ ওঠে।
দৌলতপুরের বাচামারা গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন এবার ছয় বিঘায় পাট করেছিলেন, তবে মান তেমন ভালো হয়নি। মাসখানেক আগে মণ ৩,৭০০ টাকায় বেচেছিলেন; এদিন ১০ মণ এনে ৫,০০০ টাকা চাইলেও পাইকারেরা ৪,৭০০ টাকার বেশি দেননি, সেই দামেই বেচে দেন। টাঙ্গাইলের নাগরপুরের কৃষক লাল চান জানান, স্বাধীনতার আগে থেকে তিনি এ হাটে ধান, পাট ও সরিষা বেচতে আসেন; বর্ষায় কয়েকজন মিলে নৌকায় মাল আনলে খরচ কমে।
চাষিরা জানান, এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় ও বর্ষার পানি পর্যাপ্ত না থাকায় পাট পচাতে ভোগান্তি হয়েছে, ফলে অনেক পাটের রং সোনালি হয়নি, অথচ সোনালি পাটের দাম বেশি। হাটে দরকারি সুযোগ-সুবিধারও অভাব রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, হাটের ঐতিহ্য টেকাতে সরবরাহ বাড়ানো, পাট পচানোর সমস্যার সমাধান আর নদীভাঙন রোধ জরুরি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহজাহান সিরাজ বলেন, এ বছর মানিকগঞ্জে ৪,৫৩০ হেক্টরে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ২৫০ হেক্টর বেশি; উৎপাদন ১৩,৭৫০ টন। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ও সরকারি অনুদানে কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের মানিকগঞ্জ সংবাদদাতার।
ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)