দেশজুড়ে চাহিদা থাকা রাজশাহীর মিষ্টি পানের বরজে সম্প্রতি নানা রোগবালাই ও পচন দেখা দিয়েছে। চাষিরা নিজেদের মতো কীটনাশক দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন, ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন। জেলার দুর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর, পুঠিয়া ও তানোরে বিস্তীর্ণ জমিতে পান চাষ হয়, এর বাইরেও জেলার নানা জায়গায় বরজ আছে।
প্রান্তিক পানচাষিরা জানান, কয়েক বছর ধরে পানে পচন ও নতুন নতুন অজানা রোগ, সময়মতো সার না পাওয়া এবং কীটনাশকসহ উপকরণের বাড়তি দামে তাঁরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বাজারে পানের দাম ঠিক হয় পাতার আকার, গড়ন ও সৌন্দর্য দেখে, তাই রোগে পাতা নষ্ট হলে দামও পড়ে যায়। অথচ বহু পরিবার সারা বছর পান বেচেই সংসার চালায়।
দুর্গাপুরের মীরপুর গ্রামের পানচাষি বাবর আলী বলেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে পানে এমন রোগ হচ্ছে, যা আগে কখনো দেখেননি; রোগ চিনতে ও সারাতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। পুঠিয়ার পানচাষি আবির আহম্মেদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না, বরজে আসেন না, ফলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া যায় না।
দুর্গাপুরের দাওকান্দিতে দুই যুগের বেশি পানের আড়ত চালানো জয়নাল আবেদীন জানান, রাজশাহীর পাইকারি বাজারে ৬৪টি পানে এক বিড়া, আর ৩২ বিড়ায় এক পোয়া ধরা হয়। এক পোয়া পানের পাইকারি দর এখন ২,৮০০ থেকে ৩,৬০০ টাকা। দুই মাস আগে প্রতি বিড়া ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৪৫-৫০ টাকা, ভালো পান ১০০-১২০ টাকা। তাঁর মতে, খরচ তুলে লাভ করতে হলে দাম আরও বাড়তে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন অবশ্য বলেন, তিনি তানোর ও মোহনপুরের পানবরজ ঘুরে দেখেছেন, পানের কোনো সমস্যা পাননি। মাকড়, গোড়াপচা ও পাতাপোড়া রোগ কখনো কখনো হয়, তবে নতুন রোগের কথা তিনি শোনেননি। মাঠকর্মীরা সারাক্ষণ মাঠে থেকে সহায়তা করছেন বলে দাবি করে তিনি চাষিদের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের রাজশাহী সংবাদদাতার।
ছবি: Pamri / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)