সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৭১%বাতাস ১ কিমি/ঘ

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধানের ফলন ভালো, তবু দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা

২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা জানান, এবার আমন ধানের ফলন ভালো হলেও দুই মণের এক বস্তা ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, যাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না; তাঁরা সরকারের কাছে ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে ধান কেনার দাবি জানান।

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধানের ফলন ভালো, তবু দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা
এগ্রোবিজ

২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে ঠাকুরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ মাঠ ছিল সোনালি ধানে ভরা, আর উত্তর-পশ্চিমের এই জেলায় আমন ধানের ভালো ফলনে খুশি ছিলেন কৃষকরা। তবে সেই খুশির আড়ালে ছিল এক নিঃশব্দ দুশ্চিন্তা। ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জাগো নিউজকে জানান, ফসল ভালো হলেও স্থানীয় বাজারে ধানের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় কম, তাই ন্যায্য দাম না পেয়ে তাঁরা হতাশ। জেলা কৃষি বিভাগও জানায়, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে, আর সরকার ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করলে দাম কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন পর্যন্ত জেলার আমন জমির প্রায় ১০ শতাংশের ধান কাটা হয়েছিল।

ভালো ফলনের মাঠে দামের দুশ্চিন্তা


জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ধান কাঁধে করে ঘরে তুলছেন, কেউ মাড়াই করে চাল তৈরির কাজ করছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় তাঁরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না বলে জানান।

স্থানীয় কৃষক শুভ, রিপন আলী, ইব্রাহিম ও আবুল হোসেন জানান, ৫০ শতকের এক বিঘা জমিতে এবার ধানের ফলন হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ মণ। কিন্তু সার, বীজ, শ্রম, জমি লিজ ও পরিবহন মিলিয়ে প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে বাজারে দুই মণের এক বস্তা ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, যা দিয়ে খরচও উঠছে না বলে তাঁরা জানান।

তাঁরা আরও বলেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম নেই। প্রতি বস্তা তিন হাজার টাকা পেলে কিছুটা লাভ থাকত। সরকার যদি ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে ধান কেনে, তাহলে কৃষকরা ন্যূনতম লাভে হলেও টিকে থাকতে পারবেন। ফলন, খরচ ও দামের এই হিসাবগুলো কৃষকদের নিজেদের, যেভাবে তাঁরা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

কৃষি বিভাগ যা বলেছে


ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে দামের কিছুটা ওঠানামা থাকলেও কৃষকরা পরবর্তী ফসলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করলে দামও কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলার ১ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার টন চাল। ততদিনে প্রায় ১০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছিল।

মৌসুমজুড়েই কৃষি বিভাগের হিসাব প্রায় একই রকম ছিল। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত ডিএইর তথ্যে জেলায় আমনের আবাদ ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর; পাশাপাশি ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টরে আগাম সবজি লাগানো হয়েছিল। অক্টোবরের শেষে আজকের পত্রিকা ও যুগান্তরে প্রকাশিত ডিএইর তথ্যে আমনের আবাদ দেখানো হয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯০ হেক্টর।

উপজেলা পর্যায়ে হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিস ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দৈনিক করতোয়াকে জানায়, সেখানে এবার আমনের আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৪৩৫ হেক্টরে, আগের বছর যা ছিল ১৬ হাজার ৪৩০ হেক্টর। উপজেলা কৃষি অফিসারের তথ্যমতে, এর মধ্যে ৬টি জাতের হাইব্রিড আমন হয়েছে ২ হাজার ১০০ হেক্টরে এবং ১৮টি জাতের উফশী রোপা আমন হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টরে। পত্রিকাটি জানায়, হাইব্রিড ও উফশী জাতে কম খরচে অল্প সময়ে ভালো ফলন মেলে এবং ধান কাটার পর একই জমিতে আলু, গম বা ভুট্টা চাষ করা যায়। দুই বিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান লাগানো এক কৃষক জানান, ধান কাটার পর তিনি ওই জমিতে আলু বা ভুট্টা আবাদের পরিকল্পনা করছেন।

বাংলাদেশের একটি গ্রামে যন্ত্রের সাহায্যে কাটা ধান মাড়াই করা হচ্ছে। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের একটি গ্রামে যন্ত্রের সাহায্যে কাটা ধান মাড়াই করা হচ্ছে। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বৃষ্টির ধাক্কা সামলে ফসল


ফসল কাটার আগের কয়েক সপ্তাহে দুই দফা অসময়ের বৃষ্টির পরও এই ভালো ফলন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের শুরুতে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে কয়েকটি উপজেলায় পেকে ওঠা আমন ধান পানিতে নুয়ে পড়ে। ৫ অক্টোবর আজকের পত্রিকায় উদ্ধৃত ডিএইর তথ্যে তিন দিনে জেলায় ৩২.৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ঠাকুরগাঁও ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক পত্রিকাটিকে বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই সময়ে এমন টানা বৃষ্টি দেখা যায়নি; জলাবদ্ধতায় আমন ও শীতকালীন সবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে যে ধান পাকতে শুরু করেছে তার গুণমান কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নামানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে নালা কেটে পানি বের করে দিতে বলা হচ্ছে।

অক্টোবরের শেষে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় জেলার পাঁচ উপজেলায় আধপাকা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে, ৩১ অক্টোবর জানায় যুগান্তর। জেলা ডিএইর তথ্যমতে, তখন পর্যন্ত শুধু সদর উপজেলাতেই ৩০ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছিল, অন্য উপজেলার ক্ষতির হিসাব তখনো চলছিল; এর এক দিন আগে আজকের পত্রিকা সদরে ১৮ হেক্টরের কথা জানিয়েছিল। কচুবাড়ী এলাকার চার একর জমিতে আমন আবাদ করা এক কৃষক দুই পত্রিকাকেই বলেন, ফলন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। আখানগর এলাকার এক কৃষক যুগান্তরকে বলেন, গত বছর তিনি ধানের ভালো দাম পাননি।

উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম তখন পত্রিকাগুলোকে বলেন, যেসব ধানগাছ শুয়ে পড়েছে সেগুলো গোছা করে বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এতে ক্ষতি কিছুটা কমবে, আর ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এক বছর আগেও জেলায় একই পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হলে ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক প্রথম আলোকে এই পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি একে বলেন ‘লজিং আপ’, আর গ্রামের কৃষকরা বলেন ‘হুরা বাঁধা’: চার-পাঁচটি নুয়ে পড়া ধানের গোছা একসঙ্গে করে গোছারই একটি পাতা দিয়ে বেঁধে দিলে গাছ সোজা হয়ে দাঁড়ায়, বাতাসে আর হেলে পড়ে না। তাঁর মতে, জমিতে পানি জমে থাকলে নুয়ে পড়া ধানগাছে পচন দেখা দিতে পারে, ধানের শিষে রোগ ছড়াতে পারে এবং এ সময় পোকার আক্রমণও বেড়ে যায়।

আমন: বর্ষার ধান


বাংলাদেশে ধান চাষ হয় তিন মৌসুমে: আউশ, আমন ও বোরো। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, সাধারণত আউশ কাটা হয় জুলাই-আগস্টে, বোনা আমন নভেম্বর-ডিসেম্বরে, রোপা আমন নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে, স্থানীয় বোরো এপ্রিল-মে মাসে এবং উচ্চফলনশীল বোরো মে-জুন মাসে। এর মধ্যে রোপা আমনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা দেশে চাষ হয়; বোনা বা ছিটানো আমন বেশি হয় দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।

বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ২০০৯-১০ সালে দেশের ধানের জমির প্রায় ৪৬ শতাংশে ছিল রোপা আমন, ৪১ শতাংশে বোরো, ৯ শতাংশে আউশ এবং ৪ শতাংশে বোনা আমন। আবাদি জমির দিক থেকে আমন শীর্ষে, আর উৎপাদনে শীর্ষে বোরো। ওই বছরের সারণিতে আমনের মোট উৎপাদন দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন।

আমন মূলত বৃষ্টিনির্ভর বর্ষা মৌসুমের ফসল। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ঢাকা দপ্তর ২০২৫ সালের ২৫ আগস্টের গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট প্রতিবেদনে জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের অনেক কৃষক ২০২৫ সালের জুলাইয়ের শুরুতেই আমনের চারা রোপণ শুরু করেন এবং আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে ৮০ শতাংশের বেশি রোপণ শেষ হয়। দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত আগস্টের শুরুতে রোপণ শুরু হয়ে মাসের শেষে শেষ হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ফসল কাটার পরের কাজও কৃষকের আয়ের সঙ্গে জড়িত। বাংলাপিডিয়া বলছে, সদ্য কাটা ধানে আর্দ্রতা থাকে ২০ শতাংশ বা তার বেশি, তাই সংরক্ষণের আগে শুকাতে হয়; ১৪ শতাংশ আর্দ্রতায় ধান দুই-তিন মাস নিরাপদে রাখা যায়, আর আরও দীর্ঘ সময় রাখতে হলে আর্দ্রতা প্রায় ১২ শতাংশে নামাতে হয়। সংরক্ষণের উদ্দেশ্যের মধ্যে বাংলাপিডিয়া ব্যবসায়ীদের দেওয়া বাড়তি দামের সুযোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে। জ্ঞানকোষটির হিসাবে, প্রচলিত ও অদক্ষ পদ্ধতিতে ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে প্রায় ১৩ শতাংশ শস্য নষ্ট হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৩৫ লাখ ১০ হাজার টন। আমন মৌসুমে এখনো প্রচলিত পদ্ধতিতে মাড়াই ব্যাপকভাবে চলে, আর আবহাওয়া ঠান্ডা ও শুকনো থাকায় মাড়াইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মধ্যে ব্যবধান তিন মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ আছে।

বাংলাদেশে রোদে ধান শুকানো হচ্ছে। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বাংলাদেশে রোদে ধান শুকানো হচ্ছে। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

২০২৫ সালে দেশের আমনের চিত্র


ঠাকুরগাঁওয়ের ভালো ফলন জাতীয় পূর্বাভাসের সঙ্গেও মিলে যায়। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ডিএইর প্রাথমিক হিসাবে সেই মৌসুমে কৃষকরা ৫৯ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। কৃষক ও কৃষিবিদরা পত্রিকাটিকে বলেন, আগের বছর বারবার বন্যা আমনের ক্ষতি করেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে বড় কোনো বন্যা হয়নি, বরং নিয়মিত বৃষ্টি ফসলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। ডিএইর মাঠ পরিচর্যা উইংয়ের একজন পরিচালক বলেন, ফসলের অবস্থা চমৎকার, ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক পত্রিকাটিকে বলেন, আগের বছর বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ায় ১১ লাখ টন চালের ক্ষতি হয়েছিল; এবার আবহাওয়া অনুকূল, প্রয়োজনের সময় বৃষ্টি হয়েছে এবং শেষ পর্যায়ে খরা হয়নি, তাই সামগ্রিক উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমনের উৎপাদন হিসাব করেছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ টন, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ কম; আর দেশের বার্ষিক চাল উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে আমন থেকে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস বিবিএসের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমনের উৎপাদন দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টনে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ কোটি ৬৬ লাখ টনের চেয়ে সামান্য কম; অথচ বন্যায় সাড়ে তিন লাখ হেক্টরের বেশি জমি ডুবে গিয়েছিল এবং এর মধ্যে মাত্র ৩০ হাজার হেক্টরে আবার চারা লাগানো গিয়েছিল। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ২.৮১ টন থেকে বেড়ে ২.৯৫ টনে ওঠে, আর ডিএইর মহাপরিচালক জানান, আবাদি জমি ১ লাখ হেক্টর কমলেও ফলন বাড়ায় উৎপাদন ধরে রাখা গেছে। ইউএসডিএর আগস্ট ২০২৫ প্রতিবেদন ডিএইর তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব হিসাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে আমনের আবাদ ৫৮ লাখ হেক্টর এবং চাল উৎপাদন ১ কোটি ৪৭ লাখ টন হবে বলে পূর্বাভাস দেয়।

পাশের উত্তরের জেলাগুলোতে তখন ধান কাটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ডেইলি স্টার জানায়, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলে অক্টোবরেই আমন কাটা শুরু হয়, আর রংপুর অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, মূল ভূখণ্ডে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ধান কাটা শুরু হবে।

বাজারে চালের দাম, মাঠে ধানের দাম


কৃষকদের এই অভিযোগ এমন সময়ে, যখন ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম ছিল বেশি। ইউএসডিএ জানায়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মোটা চালের গড় খুচরা দাম কেজিপ্রতি ৫৭.৫ টাকায় পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, আর সরু (সুগন্ধিহীন) চালের দাম ওঠে ৮০ টাকায়। প্রতিবেদনে এই বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে ধান উৎপাদন ও চাল ছাঁটাইয়ের বাড়তি খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং বহু হাত ঘোরা অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থার কথা বলা হয়। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ডেইলি স্টার টিসিবির তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ঢাকায় মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা এক বছর আগের চেয়ে ৯.৫ শতাংশ বেশি; বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিকে দাম বাড়ার একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেছিল।

মাঠপর্যায়ে নতুন ধানের দাম জায়গাভেদে আলাদা ছিল। পাশের রংপুর কৃষি অঞ্চলে, যেখানে স্বল্পমেয়াদি আমন আগে কাটা হয়, কৃষকরা ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বাসসকে জানান, নতুন আমন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; অক্টোবরের শেষে রংপুরের কৃষকরা নিউ এজকে জানান, তাঁরা প্রতি মণ ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পাচ্ছেন। ডেইলি স্টারের হিসাবে এক মণ প্রায় ৪০ কেজি। ঠাকুরগাঁওয়ে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে কৃষকরা দাম বলেছেন দুই মণের বস্তা ধরে, ওপরে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই সপ্তাহে জেলায় শুধু ধানের দামেই হতাশা ছিল না। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকা পোস্ট জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ের সবজিচাষিরাও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ, যদিও ডিএইর উপপরিচালকের ভাষ্যে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ ট্রাক সবজি জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যায়। পত্রিকাটিতে উদ্ধৃত ডিএইর তথ্যে সে বছর জেলায় ৪ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির আবাদ হয়েছিল। উপপরিচালক বলেন, আগে কৃষকরা ভালো দাম পেলেও এখন কিছুটা কম পাচ্ছেন, তবে তাঁরা লাভের মধ্যেই আছেন।

সরকারি ধান সংগ্রহ কীভাবে হয়


কৃষকদের মূল দাবি ছিল, সরকার ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে ধান কিনুক। ইউএসডিএর বর্ণনায়, সরকার সাধারণত আমন ও বোরো কাটার পর মজুত বাড়াতে ধান ও চাল কেনে: চাল সংগ্রহ করা হয় সারা দেশের আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ চালকল থেকে, আর ধান কেনা হয় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে। প্রতি মৌসুমের দাম ও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি (এফপিএমসি)।

২০২৪-২৫ আমন মৌসুমের জন্য এফপিএমসি ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর কেজিপ্রতি ৩৩ টাকা দরে সাড়ে ৩ লাখ টন ধান, ৪৭ টাকা দরে সাড়ে ৫ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৪৬ টাকা দরে ১ লাখ টন আতপ চাল, মোট ১০ লাখ টন খাদ্যশস্য কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, জানায় ঢাকা ট্রিবিউন। ধান ও সেদ্ধ চাল সংগ্রহ অভিযান চলার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আর আতপ চাল সংগ্রহ ২০২৫ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত। ডেইলি স্টার জানায়, নির্ধারিত মান মেনে সরকারি গুদামে ধান দিলে কৃষক কেজিপ্রতি ৩৩ টাকা পাবেন, যা আগের দরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

২০২৫ সালের বোরো মৌসুমে, ইউএসডিএর তথ্যমতে, সরকার কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে সাড়ে ৩ লাখ টন ধান, ৪৯ টাকা দরে ১৪ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৪৮ টাকা দরে ৩৫ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্য ঠিক করে। ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪২ টন ধান কেনা হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি; আর জুলাইয়ের শেষে সরকারি গুদামে চালের মজুত দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার টনে, যা ২০২২ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় নতুন আমন মৌসুমের সরকারি ক্রয়মূল্য তখনো ঘোষণা হয়নি। এ কারণেই কৃষকরা সরকারের কাছে ন্যায্য দাম নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছিলেন, আর উপপরিচালকও বলছিলেন, মূল্য নির্ধারিত হলে দাম কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ঈশ্বরদীতে চালের বস্তা বোঝাই একটি দুই চাকার ট্রাক্টর ও ট্রেইলার সারিতে অপেক্ষা করছে। ছবি: Scott E. Justice / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ঈশ্বরদীতে চালের বস্তা বোঝাই একটি দুই চাকার ট্রাক্টর ও ট্রেইলার সারিতে অপেক্ষা করছে। ছবি: Scott E. Justice / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ঠাকুরগাঁও: উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলা


ঠাকুরগাঁও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে, রংপুর বিভাগে অবস্থিত। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জেলার আয়তন ১ হাজার ৭৮১.৭৪ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তরে পঞ্চগড়, পূর্বে পঞ্চগড় ও দিনাজপুর এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। ১৮৬০ সালে দিনাজপুর জেলার অধীনে ঠাকুরগাঁও মহকুমা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় উন্নীত হয়।

জেলার পাঁচটি উপজেলা হলো ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও হরিপুর। এখানে রয়েছে ৩টি পৌরসভা, ৫১টি ইউনিয়ন ও ৬৪১টি গ্রাম; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার ৪২ জন এবং গড় সাক্ষরতার হার ৪৮.৭ শতাংশ। প্রধান নদী টাঙ্গন, নাগর, কুলিক, তীরনই ও পাথারি, আর কাচনা বিল এখানকার উল্লেখযোগ্য জলাভূমি।

জেলার অর্থনীতিতে কৃষিরই প্রাধান্য। ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে বাংলাপিডিয়া জানায়, জেলার মানুষের আয়ের প্রধান উৎসের ৭৬.৭৪ শতাংশ কৃষি, আর বাণিজ্য ৯.০৫ শতাংশ। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার প্রধান ফসল হিসেবে ধান, গম, আলু, আখ, ডাল, সরিষা ও সবজির কথা বলা হয়েছে, আর আউশ ধান, যব ও পাট সেখানে বিলুপ্ত বা প্রায় বিলুপ্ত ফসল। একই ভুক্তিতে উপজেলার কলকারখানার তালিকায় চালকল, হাস্কিং মিল, চিনিকল ও হিমাগার রয়েছে, এবং কৃষিজমির মালিকানার হিসাবে সেখানকার ৪২.৮৪ শতাংশ মানুষকে ভূমিহীন হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বিঘা, মণ ও কৃষকের হিসাব


প্রতিবেদনের কৃষকরা জমি মেপেছেন বিঘায়, ধান মেপেছেন মণে, যা গ্রামবাংলার প্রচলিত একক। এক মণ প্রায় ৪০ কেজি। অঞ্চলভেদে বিঘার মাপ আলাদা হয়, সে কারণেই ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা ৫০ শতকের বিঘার কথা বলছেন। তাঁদের প্রতিটি বস্তায় থাকে দুই মণ ধান, আর তাঁরা যে দাম বলেছেন তা পুরো বস্তার দাম।

আমন খেত থেকে শুধু ধানই আসে না। রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাসসকে জানান, এক বিঘা জমির কাঁচা খড় স্থানীয় বাজারে গোখাদ্য হিসেবে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তাঁদের বাড়তি আয় দিচ্ছে। উত্তরের অনেক কৃষক স্বল্পমেয়াদি জাত লাগান, যাতে আমনের পর শীতের ফসল করা যায়। রংপুরের কৃষকরা নিউ এজকে জানান, তাঁরা মূলত ব্রি ধান৯০, ব্রি ধান৯৫, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৭১, বিনা ধান১৭ ও বিনা ধান১৬ এবং কয়েকটি হাইব্রিড জাত চাষ করেছেন। ডিএইর কর্মকর্তারা বাসসকে জানান, আশ্বিন ও কার্তিক মাসের মৌসুমি অভাব ‘মঙ্গা’র সময় খেতমজুরদের কাজের ব্যবস্থা করতে ২০০৬ সাল থেকে স্বল্পমেয়াদি আমনের সম্প্রসারিত চাষ শুরু হয়; ব্রির একজন সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সংস্থাটিকে বলেন, এসব জাতের ব্যাপক চাষের ফলে ২০১০ সাল থেকে ওই অঞ্চলে মঙ্গা দূর হয়েছে।

ব্রি ধান জাতগুলো এসেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে, যা ধান নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৭০ সালে ঢাকা থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাপিডিয়ার ভুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ততদিনে ৫৭টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছিল এবং এর জিন ব্যাংকে প্রায় ৫ হাজার ধানের জার্মপ্লাজম সংরক্ষিত আছে। ভালো বীজ, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠ ফসল দিয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর কৃষকরা অপেক্ষা করছিলেন এমন একটি দামের, যাতে ফসল ফলাতে যা খরচ হয়েছে অন্তত তা উঠে আসে।

ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, আজকের পত্রিকা, যুগান্তর, প্রথম আলো, দৈনিক করতোয়া, ঢাকা পোস্ট, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ঢাকা ট্রিবিউন, নিউ এজ, বাসস, ইউএসডিএ ফরেন অ্যাগ্রিকালচারাল সার্ভিস, বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

উল্লাপাড়ায় আগাম খিরা উঠতে শুরু, আড়তে মণ ১,২০০ থেকে ১,২৫০ টাকা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৩৬০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২৫ হেক্টরে খিরা বোনা হয়েছে; চরবদ্ধনগাছা ও চাকশা আড়তে আগাম খিরা চড়া দামে বিকোচ্ছে।

কৃষি সময়১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

ইটনার হাওরে ডিলারের সার মিলছে না, বস্তায় ২০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছেন কৃষক

বোরোর জমি তৈরির সময়ে কিশোরগঞ্জের ইটনায় ১০৮ বস্তা বিএডিসির ডিএপি সারসহ একটি নৌকা আটক করেছে নৌ পুলিশ; কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের বরাদ্দ এলাকায় না আসায় চোরাই সার কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে।

সমকাল১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

জয়পুরহাট ও বগুড়ায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিকল্পনা, আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানির জন্য জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কথা ভাবছে কৃষি মন্ত্রণালয়; পঞ্চগড়ের ২১৭.৭৮ একর খাসজমিও যাচাই হবে।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)