যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে বার্ড ফ্লু আক্রান্ত দুধের গরুর সংস্পর্শে আসা এক বাসিন্দা ভাইরাসটিতে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ইয়াকিমা হেলথ ডিস্ট্রিক্ট। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ওই ব্যক্তি ১ নভেম্বর মারা যান, তাঁর আগে থেকে অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। নাম, বয়স, লিঙ্গ বা কীভাবে সংক্রমণ হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
ক্যাপিটাল প্রেসের প্রতিবেদক ডন জেনকিন্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে এটি তৃতীয় মৃত্যু, আর দুগ্ধ খামারে সংক্রমণের পর প্রথম। ইয়াকিমার আরও দুজন বাসিন্দা আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন, অন্তত একজনের অসুস্থতা গুরুতর নয়। ইয়াকিমার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডেভ অ্যাটেবেরি বলেন, ঘটনাটি গুরুতর ও হৃদয়বিদারক, তবে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি এখনো কম।
মৃত্যুর খবর এল এমন সময়ে, যখন মধ্য ওয়াশিংটনের দুগ্ধ খামারে ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। ৮ অক্টোবর ইয়াকিমার দুটি খামারে বার্ড ফ্লু নিশ্চিত হয়। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ইয়াকিমা ও পাশের বেন্টন কাউন্টিতে আক্রান্ত খামার দাঁড়ায় ৪০টিতে, যা অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ। এক সপ্তাহেই আক্রান্ত খামার নয়টি থেকে ৩৪টিতে উঠেছিল। ওয়াশিংটন স্টেট ডেইরি ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক রিক নারবাউট বলেন, উপত্যকার প্রায় সব খামারেই এটি ঢুকেছে, এতে খামারিদের দোষ নেই; পৃথিবীর কোথাও কেউ এখনো এর বিস্তার ঠেকানোর উপায় বের করতে পারেনি।
নারবাউটের মতে, মুরগির খামারের মতো গরুর খামার পুরো বন্ধ করে রাখা যায় না। বেশির ভাগ গরু চার থেকে ছয় সপ্তাহে সেরে ওঠে বলে জৈব নিরাপত্তার ব্যবস্থাও বাস্তবসম্মত রাখতে হয়। গরুর মধ্যে ভাইরাস এত সহজে কীভাবে ছড়ায়, গবেষকেরা এখনো জানেন না। মে মাসে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা যায়, খুব অল্প মাত্রার ভাইরাসেও গরু অসুস্থ হয়, তবে দূষিত দোহন যন্ত্র দিয়ে তা সহজে ছড়ায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মধ্যে এ প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২০২৪ সালের মার্চে টেক্সাসে, এখন তা ২১টি অঙ্গরাজ্যে পৌঁছেছে। ২ নভেম্বর ইন্ডিয়ানার একটি খামারে প্রথম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসির হিসাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ৭২ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, ৪২ জন আক্রান্ত গরু থেকে আর ২৪ জন হাঁস-মুরগি থেকে। খামারকর্মীদের একবার ব্যবহারযোগ্য পোশাক, গ্লাভস, মাস্ক, চশমা, চুলের আবরণ ও বুট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাস্তুরিত দুধ পান করা নিরাপদ।
ছবি: USDAgov / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Capital Press





মন্তব্য
(০)