শীতে তৃষ্ণা কম পায় বলে অনেকে পানি কম খান, অথচ শরীরে পানির ঘাটতি হলে তার প্রভাব শুধু তৃষ্ণা বা মুখ শুকানোয় থামে না। ক্লান্তি, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, এমনকি হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াও হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ভেরিওয়েল হেলথের তথ্য নিয়ে এসব লক্ষণ তুলে ধরেছে জাগো নিউজের লাইফস্টাইল ডেস্ক।
প্রথম লক্ষণ তৃষ্ণা। শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য বদলালে মস্তিষ্ক তৃষ্ণার অনুভূতি তৈরি করে এবং কিডনিকে প্রস্রাবে পানি কম ছাড়তে সংকেত দেয়। মুখ শুকানোও প্রাথমিক লক্ষণ: লালাগ্রন্থি দিনে প্রায় ১ থেকে দেড় লিটার লালা তৈরি করে, পানি কম খেলে লালায় পানির পরিমাণ কমে যায়।
প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার হলে পানির ঘাটতি থাকতে পারে, কারণ তখন হরমোনের সংকেতে কিডনি কম পানি ছাড়ে এবং বর্জ্যের ঘনত্ব বাড়ে। স্বাভাবিকের চেয়ে কম প্রস্রাব হওয়াও একই ইঙ্গিত দেয়। পর্যাপ্ত পানি খেলে প্রস্রাব সাধারণত হালকা হলুদ থাকে।
পানি কম খেলে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এমনকি বিভ্রান্তিও দেখা দিতে পারে। মলে পানির পরিমাণ কমে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। বসা বা শোয়া থেকে উঠলে মাথা ঘোরা পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন বলে।
পানিশূন্যতায় মৃদু, ভোঁতা মাথাব্যথা হতে পারে, যা নড়াচড়ায় বাড়ে; যাঁদের মাইগ্রেন আছে, তাঁদের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। রক্তের পরিমাণ কমলে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছাতে হৃদযন্ত্রকে দ্রুত পাম্প করতে হয়, ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে বা বুক ধড়ফড় করতে পারে।
মাথা ঘোরার সঙ্গে বুকে ব্যথা, কথা বলতে বা হাঁটতে অসুবিধা, শরীরের কোনো অংশ অবশ বা দুর্বল হওয়া কিংবা দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে বলছে ভেরিওয়েল হেলথ। এসব পানিশূন্যতার চেয়ে গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
ছবি: এক গ্লাস পানি, Derek Jensen / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)