অক্টোবরের শেষ আর নভেম্বরের শুরু শীতকালীন দানাশস্যের মাঠ ঘুরে চারা কতটা গজিয়েছে এবং আগাছা দমন কেমন কাজ করছে, তা দেখার সময়, জানিয়েছে আয়ারল্যান্ডের অ্যাগ্রিল্যান্ড। চমৎকার শরতের কারণে দেশটিতে বেশির ভাগ শীতকালীন দানাশস্য সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি আদর্শ অবস্থায় বোনা হয়েছে, আর কৃষিবিদেরা বলছেন চারা গজানো সাধারণভাবে খুব ভালো।
বীজ বপনে নির্ভুল প্রযুক্তি ব্যবহারে আইরিশ চাষিরা এগিয়ে। এতে বপনের প্রস্থ ঠিক থাকে, ট্রামলাইন হয় সোজা। বীজ বপন যন্ত্রের মাপ ঠিক করা সহজ হয়েছে, আর বীজের বস্তায় হাজার দানার ওজন লেখা থাকায় বীজের হার আরও সূক্ষ্মভাবে ঠিক করা যায়। শেষ ধাপ হলো আসলে কতটি চারা উঠেছে তা গোনা। এতে বোঝা যায় বীজের হার ঠিক ছিল কি না, আর পরের বছরের হিসাব মেলে।
সাধারণত ধরে নেওয়া হয় ৮৫ শতাংশ বীজ থেকে চারা হয়, কিন্তু মাঠ আর মৌসুমভেদে এটি অনেক বদলায়। বর্গমিটারে চারার সংখ্যা বের করার তিনটি সহজ উপায়: ০.১ বর্গমিটারের একটি চৌকো ফ্রেমের ভেতরের চারা গুনে ১০ দিয়ে গুণ; ১৫৮ সেন্টিমিটার পরিধির পাইপের রিংয়ের ভেতরে, যা ০.২ বর্গমিটার জায়গা ঢাকে, চারা গুনে ৫ দিয়ে গুণ; অথবা সারির এক মিটারে চারা গুনে, এক মিটার প্রস্থে কয়টি সারি পড়ে তা গুনে, দুটি সংখ্যা গুণ।
বপনের সময় ভালো আবহাওয়ায় এবার শীতকালীন গম ও যবে চারা ওঠার আগে আগাছানাশকের ব্যবহারও স্পষ্টভাবে বেড়েছে, যা ঘাসজাতীয় আগাছা নিয়ে বাড়তি সচেতনতার ইঙ্গিত। কিছু মাঠে, বিশেষত যেখানে স্প্রে দুবার পড়েছে বা মাঠের কিনারায়, পাতা হালকা সাদাটে হয়েছে। এটি স্বাভাবিক, কয়েক দিনেই ফসল সেরে ওঠে।
যেসব মাঠে এখনো আগাছানাশক দেওয়া হয়নি, সেখানে যত দ্রুত সম্ভব চারা ওঠার আগে বা ঠিক পরে তা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ ছোট অবস্থায় ঘাসজাতীয় আগাছা দমন অনেক সহজ। বসন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করায় গত কয়েক বছরে ব্রোম ঘাস ও বার্ষিক মেডো ঘাস নিয়ে সমস্যা বেড়েছে।
ছবি: JF Hobbs / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)