আনন্দ, ভালোবাসা, প্রার্থনা কিংবা বিদায়, প্রায় সব সংস্কৃতিতেই মানুষ এসব মুহূর্তে ফুল হাতে নেয়। ফুল ক্ষণস্থায়ী হলেও তার ভাষা দীর্ঘস্থায়ী। ঢাকা ট্রিবিউনে শুভ চন্দ্র শীলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য মিলিয়ে এই রীতির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্নেল বোটানিক গার্ডেনের প্রতিবেদনে গবেষক সারাহ ফিওরেলো দেখিয়েছেন, ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার লেখকেরা ফুলের এক বিস্তৃত ‘ভাষা’ তৈরি করেছিলেন, যার নাম ফ্লোরিওগ্রাফি। ভিক্টোরিয়ান যুগে জনসমক্ষে আবেগ প্রকাশ ভালো চোখে দেখা হতো না, তাই মানুষ ফুলকেই বেছে নেয় মনের কথা বলার মাধ্যম হিসেবে।
রঙেরও অর্থ ছিল। গ্রিক ও রোমান পুরাণে এবং মধ্যযুগে লাল ফুল মানে তীব্র আবেগ, সাদা মানে পবিত্রতা, আর বেগুনি ছিল রাজকীয়তা ও ক্ষমতার প্রতীক।
জন্মদিনে ফুল দেওয়ার রীতিও বহু শতাব্দী পুরোনো। স্পেনের ফুল কোম্পানি ফ্লোরা কুইনের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, প্রাচীন মিসরীয়রা ফুলে জাদুকরী গুণ আছে বলে বিশ্বাস করত এবং এমন উপলক্ষে দেবতাদের উদ্দেশে ফুল নিবেদন করত। প্রাচীন গ্রিসে জন্মদিনে মানুষ সুগন্ধি ফুলের মালায় নিজেদের সাজাত, যা ছিল সৌন্দর্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক।
শোকের ফুলের ইতিহাস আরও পুরোনো। যুক্তরাজ্যের বার্ড অ্যান্ড ফ্লাওয়ার ওয়ার্কশপের তথ্যমতে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ফুল ব্যবহারের প্রাচীনতম প্রমাণ পাওয়া যায় ইরাকের একটি গুহায়, প্রায় ৬২ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দের। প্রাচীন মিসরে পদ্ম ও প্যাপিরাসের মালা রাখা হতো মমি করা মরদেহের ওপর, পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে।
শোকের জন্য কিছু ফুল বিশেষভাবে বেছে নেওয়া হয়, যেমন চন্দ্রমল্লিকা, সাদা লিলি, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, কার্নেশন, গোলাপ ও অর্কিড। বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও রাশিয়াসহ বহু দেশে কবরে ফুল ও মালা রাখার প্রচলন আছে। আর জন্মের দিনে নবজাতককে বরণ করা থেকে নাগরিক জীবনের নানা আয়োজনেও ফুল মানুষের সঙ্গী।
ছবি: David Condrey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)