সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°মেঘলাআর্দ্রতা ৬৯%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বাংলাদেশের কৃষিতে কেমন প্রভাব পড়বে

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে। এ অঞ্চলে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুতই বৈশ্বিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বিশেষ করে জ্বালানি তেল, সার ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে। এ অঞ্চলে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুতই বৈশ্বিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বিশেষ করে জ্বালানি তেল, সার ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের কৃষিখাতে।

কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে জ্বালানি তেলের গভীর সম্পর্ক। সেচ ব্যবস্থা, জমি প্রস্তুত, ফসল পরিবহন, সব ক্ষেত্রেই ডিজেল বা বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিহার্য। যখন তেলের দাম বৃদ্ধি পায়; তখন সেচ খরচ বেড়ে যায়, যার ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে সার উৎপাদন ও আমদানির খরচও বাড়ে, কারণ সার উৎপাদনে গ্যাস ও জ্বালানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কৃষকেরা পর্যাপ্ত সার ব্যবহার করতে পারেন না, যা ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলে। কারণ এ অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের কর্মসংস্থান বিঘ্নিত হলে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে কৃষিখাতে সরকারি ভর্তুকি প্রদানেও সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে।

জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়া সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ে। বাংলাদেশে সেচ ব্যবস্থার বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের ওপর। সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিতে পারেন না, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।

একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ডিজেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে সার, কীটনাশক এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়। এতে কৃষকের লাভ কমে যায় এবং বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।

জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়। পরিবহন খরচ বাড়ায় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল কমে যায়, ফলে মাঠ থেকে বাজারে পণ্য পৌঁছাতে দেরী হয়। এতে পচনশীল পণ্যের ক্ষতি বাড়ে এবং কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়।

সবশেষে, এসব কিছুর সম্মিলিত প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর।

এই সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। সোলার সেচ পাম্প এবং বায়োগ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এতে খরচ কমবে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে। দ্বিতীয়ত, দক্ষ সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার সেচ পদ্ধতি কম পানি ও কম জ্বালানিতে বেশি ফলন নিশ্চিত করতে পারে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক। তৃতীয়ত, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশীয়ভাবে জৈব সার উৎপাদন এবং স্থানীয় কৃষি উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। চতুর্থত, সরকারিভাবে কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা প্রয়োজন। ডিজেল ও সারের পর্যাপ্ত মজুত এবং কৃষিখাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি কৃষকদের সুরক্ষা দিতে পারে।

এ ছাড়া স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইওটি-ভিত্তিক সয়েল সেন্সর ব্যবহার করে মাটির অবস্থা অনুযায়ী সেচ ও সার প্রয়োগ করলে খরচ কমে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সবশেষে, সমবায় ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কৃষকেরা সম্মিলিতভাবে সেচ যন্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করলে খরচ ভাগাভাগি হয় এবং উৎপাদন আরও কার্যকর হয়।

জ্বালানি সংকট কৃষিখাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি অদম্য নয়। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিকল্প জ্বালানির প্রসার এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকটকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদি এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে এই সংকট ভবিষ্যতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার পথে একটি নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অস্থিরতা বাংলাদেশের কৃষিখাতের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রথমত, কৃষিতে জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। সৌরশক্তিভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা চালু করলে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের খরচও হ্রাস পাবে।

দ্বিতীয়ত, দেশীয়ভাবে সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জৈব সারের ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন- সয়েল সেন্সর টেস্টিং, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, যাতে কম খরচে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

তৃতীয়ত, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং ভর্তুকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে হলে সরকারকে কার্যকর সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সংকটকালেও বাজার স্থিতিশীল থাকে।

সবশেষে, কৃষিকে টেকসই ও সহনশীল খাতে পরিণত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যা বৈশ্বিক যে কোনো অস্থিরতার মধ্যেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

অতএব, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এড়ানো সম্ভব না হলেও দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

ফিনল্যান্ডে গুগলের ডেটা সেন্টারের জন্য চার লাখ গাছ কাটার অভিযোগ, কাজ স্থগিত

মুহোস ও ওটানমাকিতে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন শেষ না করায় প্রাথমিক কাজ থামাতে বলেছে ফিনল্যান্ডের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ; বাদামি পানি নদীতে যাচ্ছে, নেকড়ে আসছে লোকালয়ে।

সমকাল২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দুই বছর ধরে কমছে ইলিশ, ৫.৭১ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে

দুই দশকে দ্বিগুণের বেশি বাড়ার পর ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন কমেছে; গবেষকেরা দুষছেন দুর্বল বাস্তবায়ন, নদীদূষণ, চরের পরিবর্তন আর অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনকে।

বাংলা ট্রিবিউন২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

শীতলক্ষ্যার চর থেকে হারিয়েছে ডাঙায় ওঠা বাহোক মাছ, ২০ বছরে খোঁজ মেলেনি

বন্য প্রাণী সংরক্ষক সরওয়ার পাঠানের লেখায় বাহোক বা ইন্ডিয়ান মটলড ইলের লোককথা, জীবনচক্র আর শীতলক্ষ্যা থেকে হারিয়ে যাওয়ার কারণ: দূষণ, আবাস নষ্ট আর অতি আহরণ।

প্রথম আলো২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)