সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৪°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

ছায়াগাছ লাগাতে কোকোচাষির চাই অর্থায়ন ও বাজার: কোত দিভোয়ার ও গিনির কর্মশালা

আবিদজান ও কোনাক্রিতে ৭১ জন অংশীজনকে নিয়ে সিজিআইএআর গবেষকদের দুটি জাতীয় কর্মশালা দেখিয়েছে, কোকোচাষি কৃষিবনায়ন গ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা ঠিক করে অর্থায়ন, বাজার, পরামর্শ আর গাছের ওপর নিশ্চিত অধিকার।

ছায়াগাছ লাগাতে কোকোচাষির চাই অর্থায়ন ও বাজার: কোত দিভোয়ার ও গিনির কর্মশালা
ফসল

শুধু আশ্বাসে পশ্চিম আফ্রিকার কোকোচাষিরা খামারে ছায়াগাছ লাগাবেন না, লাগালেও টিকিয়ে রাখবেন না। তাঁদের দরকার অর্থায়ন, টেকসই কোকোর জন্য ন্যায্য দাম দেয় এমন বাজার, ভালো পরামর্শ আর গাছের ওপর নিশ্চিত অধিকার। ২০২৬ সালের জুনে কোত দিভোয়ার (Côte d'Ivoire)-এর আবিদজান এবং গিনি (Guinea)-র কোনাক্রিতে দুটি জাতীয় কর্মশালার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন সিজিআইএআরের অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিয়াটের গবেষকেরা।

বিষয়টি ছোট নয়। বিশ্বের প্রায় ৪৪ শতাংশ কোকো একাই উৎপাদন করে কোত দিভোয়ার, আর প্রতিবেশী গিনি উঠতি উৎপাদক। ১৯৫০-এর দশকের পর কোত দিভোয়ার তার বনভূমির বড় অংশ হারিয়েছে, সংরক্ষিত এলাকাসহ বন উজাড়ে কোকো চাষেরও ভূমিকা আছে। গিনিতে কোকো মূলত ফরেস্ট গিনি অঞ্চলে হয়, যেখানে কম ফলন, পুরোনো বাগান, দুর্বল অবকাঠামো এবং ঋণ ও কৃষি পরামর্শের অভাব চাষিদের বড় সমস্যা। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টির ধরন বদল, খরা ও বন্যা চাপ আরও বাড়াচ্ছে। এর ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন উজাড় বিধি অনুযায়ী ইইউর বাজারে ঢোকা কোকো বন উজাড়ের সঙ্গে যুক্ত নয়, তা প্রমাণ করতে হচ্ছে।

কৃষিবনায়ন মানে কোকোর সঙ্গে ছায়াগাছ, ফলের গাছ ও কাঠের গাছ একসঙ্গে লাগানো। এতে কার্বন জমা থাকে, বন্যপ্রাণী আশ্রয় পায়, মাটির উপকার হয় এবং বদলে যাওয়া জলবায়ুর সঙ্গে খামার মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু গবেষকেরা লিখেছেন, চাষিকে গাছ লাগাতে রাজি করানোই আসল বাধা নয়। জমি ও গাছের ওপর চাষির অধিকার অনেক সময় নিশ্চিত নয়, কৃষিবনায়নে বাড়তি শ্রম লাগে, কিছু লাভ আসে বহু বছর পর, ভালো চারা, পরামর্শ ও সাশ্রয়ী ঋণ সহজে মেলে না, আর টেকসইভাবে উৎপাদিত কোকোর জন্য ক্রেতারা সবসময় বাড়তি দাম দেন না।

দুই কর্মশালায় সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন, কোম্পানি ও নাগরিক সমাজের ৭১ জন প্রমাণ পর্যালোচনা করে সবচেয়ে জরুরি শর্তগুলোর অগ্রাধিকার ঠিক করেন। কোত দিভোয়ারে তাঁরা বাজার, চাষির প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ এবং অর্থায়নকে প্রথমে রেখেছেন। গিনিতে জোর পড়েছে অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশের ওপর, সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ সেবা ও সমন্বয়। করণীয় হিসেবে উঠে এসেছে গাছের ওপর অধিকার জোরদার করা, উৎপাদকদের জন্য বাড়তি সহায়তা, উন্নত অর্থায়ন, ন্যায্য বাজার প্রণোদনা এবং অগ্রগতি মাপার এমন ব্যবস্থা, যা জলবায়ু তহবিল পাওয়ার পথও খুলতে পারে।

কর্মশালাগুলোতে সিজিআইএআরের ক্লাইমেট অ্যাকশন এবং স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট সায়েন্স প্রোগ্রামের ছয় ধাপের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে প্রশ্ন করা হয়, নির্গমন ও বন উজাড় কোথা থেকে আসছে, কোন বিষয় চাষিকে কৃষিবনায়নে এগিয়ে দেয় বা আটকে রাখে, মূল্য শৃঙ্খল, ব্যবসায়িক মডেল ও অর্থায়ন কীভাবে এই পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে, এবং জলবায়ু ও মানুষের জন্য লাভ-ক্ষতি কী। দুই দেশের কোকো মূল্য শৃঙ্খল নিয়ে সিজিআইএআরের নতুন দুটি প্রতিবেদনের তথ্যও কাজে লাগানো হয়েছে, যেখানে চারা, অর্থায়ন, বাজার এবং সমবায় ও মধ্যস্বত্বভোগী সংগ্রাহকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

পরের ধাপে এসব অগ্রাধিকারকে কোত দিভোয়ার ও গিনির জন্য সহায়ক পরিবেশ কৌশলে রূপ দেওয়া হবে, যা ইতালি সরকারের সহায়তায় ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর দিকনির্দেশনা দেবে। গবেষক দলটি বলছে, এই শিক্ষা ক্যামেরুন ও ঘানার মতো অন্য কোকো উৎপাদক দেশেও কাজে লাগতে পারে। প্রতিবেদনটি সিজিআইএআর ক্লাইমেট অ্যাকশনের জন্য লিখেছে অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিয়াটের দল।

ছবি: Numerik-3325 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)

CGIARসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে ফসলের হিসাব: নাসার সঙ্গে চুক্তি করল মার্কিন কৃষি বিভাগ

মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণের তথ্য, ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ আর পরিসংখ্যান পদ্ধতি একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ফসলের আবাদ ও ফলনের হিসাব আরও নির্ভুল করতে নাসার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ।

usda২৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নজরে রাখতে জাতীয় কাঠামো চালু করল কেনিয়া

ক্যাবির প্ল্যান্টওয়াইজপ্লাস কর্মসূচির সহায়তায় তৈরি এবং পাঁচটি কাউন্টিতে পরীক্ষিত কেনিয়ার নতুন জাতীয় কীটনাশক অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ কাঠামো তথ্য সংগ্রহ ও ভাগাভাগির একক ব্যবস্থা দিচ্ছে।

গ্লোবাল এগ্রিকালচার২৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

ইউরোপে নিষিদ্ধ কীটনাশক ২০২৪ সালে ১৫ হাজার টন কিনেছে ব্রাজিল: অক্সফাম

অক্সফাম নোভিবের 'টক্সিক ট্রেড' প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো নিজেদের দেশে নিষিদ্ধ প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার টন কীটনাশক রপ্তানি করেছে; যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বড় ক্রেতা ব্রাজিল।

গ্লোবাল এগ্রিকালচার২৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)