এ বছরের গ্রীষ্মে ভয়াবহ দাবানলের পর ওয়েলসে আগুন নেভানোর কাজে কৃষক ও জমির মালিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২২ অক্টোবর মার্থার টিডফিলে জলবায়ু পরিবর্তন ও সহনশীলতা বিষয়ক এক সম্মেলনের পর এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইয়োরওয়ের্থ (Rhun ap Iorwerth)। সরকারি ও বেসরকারি খাতের ৪০ জনের বেশি প্রতিনিধি সম্মেলনে ছিলেন। খবরটি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের কৃষি সাপ্তাহিক ফার্মার্স উইকলি।
পরিকল্পনার মূলে আছে পুরো ওয়েলসের জন্য একটি তালিকা, যেখানে কৃষক ও জমির মালিকেরা আগুন নেভাতে নিজেদের যানবাহন, যন্ত্রপাতি আর এলাকা সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করতে নাম লেখাতে পারবেন। দাবানল প্রতিরোধে ভূমি ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়ে দ্রুত একটি পর্যালোচনা হবে, আলাদাভাবে পর্যালোচনা হবে হিদার ও ঘাস পোড়ানোর নিয়মবিধিরও। পাশাপাশি ওয়েলসের দাবানল বোর্ড শক্তিশালী করা, ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞ আনা এবং আকাশপথে আগুন নেভানোর সরঞ্জামের ঘাটতি মেটানোর উপায় খোঁজা হবে। ২০২৭ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মও কঠিন হতে পারে, তার জন্য প্রস্তুত থাকার "দৃঢ় সংকল্প" আছে বলে জানান তিনি।
ফার্মার্স ইউনিয়ন অব ওয়েলসের সভাপতি ইয়ান রিকম্যান (Ian Rickman) বলেন, এলাকা ভালো চেনেন বলে কৃষকেরা আগুন ঠেকানো ও নেভানো দুই কাজেই অবদান রাখতে পারেন। তবে আগুন কোথায়, কেন ও কতটা তীব্রভাবে লাগছে সে তথ্য আরও ভালো হওয়া দরকার; সরকারের হিসাবেই প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো। তিনি আরও সতর্ক করেন, কৃষি-পরিবেশ প্রকল্প ও নতুন আবাসস্থল নিয়মের পর পাহাড়ি এলাকায় পশুচারণ কমে যাওয়ায় দাহ্য ঝোপঝাড় বেড়েছে।
ন্যাশনাল শিপ অ্যাসোসিয়েশনের নীতি ব্যবস্থাপক মাইকেল প্রিস্টলি (Michael Priestley) বলেন, অনেক কৃষকের আশঙ্কা, কৃষি-পরিবেশ নীতি পশুচারণ তুলে নিতে উৎসাহ দিচ্ছে, ফলে কাঠল ঝোপ জমছে। তাঁর মতে, ভেবেচিন্তে চরানো হলে নানা ধরনের আবাসস্থল টিকে থাকে, জীববৈচিত্র্য, কার্বন সঞ্চয় ও পানির মানও ভালো থাকে। এনএফইউ কামরির সভাপতি অ্যাবি রিডারও আরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
ন্যাচারাল রিসোর্সেস ওয়েলসের নির্বাহী পরিচালক ডমিনিক ড্রাইভার বলেন, গ্রীষ্মের আগুনে আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে, কার্বন ভান্ডার ক্ষয় হয়েছে, মাটির ক্ষতি হয়েছে; সহনশীলতা গড়তে সরকার, জরুরি সেবা, জমির ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় মানুষের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা লাগবে।
ছবি: Jeff Gogarty / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)