কৌতূহলী স্বভাবের দুগ্ধ গাভি বেশি দুধ ও দুধের কঠিন উপাদান দেয়, আর চরে ও শুয়ে বিশ্রাম নেয় বেশি সময়। পরিধেয় সেন্সর দিয়ে গাভির স্বভাবের সঙ্গে আচরণ ও উৎপাদনের যোগ খোঁজা নিউজিল্যান্ডের এক গবেষণায় এ তথ্য মিলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানের অধ্যাপক হেদার নিভ (Heather Neave) কাজ করেছেন নিউজিল্যান্ডের এথিকোএনজেড, অ্যাগরিসার্চ ও ডেইরিএনজেডের গবেষকদের সঙ্গে। দলটি ২৭টি বাণিজ্যিক দুগ্ধ খামারের প্রতিটিতে ৩০ থেকে ৪০টি গাভির কানে ও পায়ে সেন্সর লাগিয়ে দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে চরা, জাবর কাটা ও শুয়ে থাকা পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিটি খামারে ১০টি গাভির গলায় জিপিএস কলারও ছিল, যা দোহনের সময় কতটা হাঁটে আর চারণভূমির বাইরে কত সময় কাটায় তা রেকর্ড করেছে।
মোট ৭৮৮টি গাভির স্বভাব মাপা হয়েছে তিনটি প্রমিত পরীক্ষায়: দোহন শেষে ফেরার পথে নতুন কোনো বস্তুর প্রতি সাড়া (কৌতূহল), চারণভূমিতে মানুষকে কতটা কাছে আসতে দেয় (মানুষের প্রতি সহনশীলতা), আর দোহন যন্ত্র লাগানোর সময় প্রতিক্রিয়া। গাভির শরীরের অবস্থা, খোঁড়ানো, বয়স, জাত, দুধ দেওয়ার দিন, খামারের ভূপ্রকৃতি, পালের আকার, আবহাওয়া ও ব্যবস্থাপনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
কৌতূহলী গাভি দিনে ০.৬৭ লিটার বেশি দুধ, ০.০৫ কেজি বেশি দুধের কঠিন উপাদান ও ০.০২ কেজি বেশি প্রোটিন দিয়েছে; চরেছে দিনে ০.২৬ ঘণ্টা বেশি, শুয়েছে ০.১ ঘণ্টা বেশি। মানুষের প্রতি সহনশীল গাভি দিনে প্রায় ০.৪৭ লিটার বেশি দুধ দিয়েছে এবং বেশি জাবর কেটেছে; দোহনের সময়ের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে আচরণ বা উৎপাদনের কোনো যোগ পাওয়া যায়নি।
কলারের তথ্যে দেখা গেছে, চারণভূমির বাইরে, যেমন দোহনের আগে জমায়েতের জায়গায় দাঁড়িয়ে, বেশি সময় কাটালে শুয়ে থাকার সময় কমে। যেখানে খামারিরা হাঁটার দূরত্ব কমিয়েছেন, সেখানে চরার সময় বেড়েছে; প্রতিটি চারণভূমিতে অন্তত একটি পানির পাত্র রাখা খামারে দুধ বেশি হয়েছে, আর বৈচিত্র্যময় খাবারে জাবর কাটা ও বিশ্রামের সময় বেড়েছে।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে চতুর্থ আন্তর্জাতিক প্রিসিশন ডেইরি সম্মেলনে নিভ বলেন, "আলাদা স্বভাবের প্রতিটি গাভির প্রয়োজন মেটাতে পরিধেয় প্রযুক্তি দিয়ে আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনা ঠিক করার সম্ভাবনা আছে।"
ছবি: Halter / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)