সিনেথেম্বা এনকোবিলে গেবাশে (Sinethemba Nqobile Gebashe) খামার শুরু করেছিলেন ২০১১ সালের অক্টোবরে, হাতখরচের জমানো টাকায় বানানো মাটির ইটের একটি মুরগির ঘর দিয়ে। আজ দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের উমজুম্বে এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠান ইথুবা লামাহলাভুলা ফার্মিংয়ে (Ithuba Lamahlavula Farming) আছে ১,০০০ লেয়ার মুরগি, আর তিনি পাইকারি দরে ডিম সরবরাহ করেন।
মা-বাবা তাঁকে পারিবারিক দুই হেক্টর জমি দেন, সেখানে তিনি ৫০টি এক দিনের ব্রয়লার বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন। ২০১২ সালে ব্যবসা নিবন্ধন করেন, কিন্তু পরের বছর ভারী বৃষ্টিতে মাটির ঘর ভেঙে পুরো মুরগির পাল মারা যায়। প্রথম দিকের আয় থেকে টাকা জমিয়ে তিনি ১০ মিটার বাই ৫ মিটারের একটি মজবুত ব্রয়লার ঘর তোলেন। তাঁর কথায়, "আমার লক্ষ্য ছিল লেয়ার খামার, কিন্তু টাকা না থাকায় শুরুতে ব্রয়লারই চালিয়ে যাই।"
এরপর সহায়তা আসে। উমজুম্বে স্থানীয় পৌরসভার এলইডি অ্যাসেট অ্যাসিস্ট কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি প্রথম ৫০০টি লেয়ার মুরগি কেনেন এবং ডিম উৎপাদনে যান। পরে কোয়াজুলু-নাটালের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ তাঁকে ৪,০০,০০০ র্যান্ড অনুদান দেয়, যা দিয়ে তিনি মুরগির সংখ্যা ১,০০০-এ নেন এবং ঘর, খাদ্য সরবরাহ ও সরঞ্জাম উন্নত করেন।
খামারটি এখন ম্যান্ডেট ফুড কোম্পানি, পিসিকে ডিস্ট্রিবিউটরস, টার্টন হোলসেল ও এমথওয়ালুমে হোলসেলের কাছে ডিম বিক্রি করে, আর ডিম দেওয়া শেষ হওয়া মুরগি বিক্রি করে এলাকার মানুষের কাছে। দুজন স্থায়ী ও দুজন খণ্ডকালীন কর্মী আছেন; কৃষি বিভাগের দুজন স্নাতক প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা, ডিম বাছাই, প্যাকেট ও সরবরাহে সাহায্য করেন।
গেবাশে কাজটির জন্য পড়াশোনাও করেছেন: কোস্টাল কেজেডএন এফইটি কলেজে প্রাথমিক কৃষি, তারপর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকা থেকে কৃষি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ডিপ্লোমা ও বিটেক; সহকারী সম্প্রসারণ কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন। নতুন অনেক পোলট্রি খামারির মতো তিনিও খাদ্যের উচ্চ দাম, রোগের ঝুঁকি, সীমিত সক্ষমতা ও পরিবহন খরচের চাপে আছেন। তিনি বলেন, "মুরগির স্বাস্থ্য নজরে রাখা, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যের হিসাব, উৎপাদন-পরিকল্পনা আর নির্ভরযোগ্য পাইকারি ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক দিয়ে আমরা এসব সামলাই।"
তিন বছরের মধ্যে ৫,০০০ লেয়ারে পৌঁছানো এবং মুরগির বিষ্ঠা স্থানীয় ফসলের সার হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তাঁর। নতুন খামারিদের প্রতি তাঁর পরামর্শ: "ছোট করে শুরু করুন, লেগে থাকুন, আর শিখতে থাকুন"; বাজার বুঝুন, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ছবি: Shark2025 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)