বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতকে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর ভাবনা থেকে বেরিয়ে খামারের লাভ, খাদ্যের নিরাপত্তা, জলবায়ু-সহনশীলতা আর আন্তর্জাতিক মানের দিকে নজর দিতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (ডাব্লিউপিএসএ-বিবি) ‘বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জন্য সহনশীল পোল্ট্রি উৎপাদন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল সেমিনারে এ তাগিদ দেন বক্তারা।
সংগঠনের সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, খাতটি উৎপাদনের পরিমাণের সমস্যা মেটালেও ন্যায্য দামের সমস্যা মেটাতে পারেনি। উৎপাদন বাড়লেও অনেকে লোকসান গুনছেন; তাঁর হিসাবে ব্রিডার খামারগুলো গত ২০ মাসে প্রায় ১,৭০৬ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে, আর মুনাফা খামার ও হ্যাচারি থেকে সরে গেছে সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। চাহিদার সঙ্গে বাচ্চার সরবরাহ মেলানো, জাতীয় পোল্ট্রি নীতিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং বিমা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড চেইনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী ভোক্তা জরিপ ও ল্যাব পরীক্ষার ভিত্তিতে একটি গবেষণা তুলে ধরেন: প্রচলিত ধারণার উল্টো, পরীক্ষা করা কোনো নমুনায় গ্রোথ হরমোন পাওয়া যায়নি। তিনি ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ, জ্যান্ত মুরগির বাজারে উন্নত স্বাস্থ্যবিধি ও জনগণের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগের ওপর জোর দেন।
বাংলা-ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টসের সিইও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বনিম্ন খাদ্য রূপান্তর হার (এফসিআর) সব সময় সবচেয়ে লাভজনক নয়; ওষুধ বন্ধের নির্ধারিত সময় মানা আর বেশি ওজনের মুরগি বাজারে আনলে আয় ও খাদ্যের নিরাপত্তা দুটোই বাড়ে। প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মশিউর রহমান দেখান, খাদ্যের ভালো ব্যবহার, দক্ষ শক্তি ব্যবস্থাপনা আর মৃত্যুহার কমিয়ে খরচ ও কার্বন নিঃসরণ দুটোই কমানো যায়; বায়োগ্যাস, জৈব সার ও সৌরবিদ্যুৎ খামারের বর্জ্যকে আয়ে বদলাতে পারে।
রপ্তানি প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বেবি রানী কর্মকার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রতিযোগিতা সম্ভব, তবে শুধু হালাল সনদ যথেষ্ট নয়; লাগবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ, অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব আর বাজারভিত্তিক নির্দেশিকা। বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার বলেন, ‘আমদানিকারকরা কোনো দাবি মানেন না; তারা মানেন প্রমাণ।’ বার্ড ফ্লুর ঝুঁকি থাকায় একটি পণ্য, একটি বাজার আর নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ শৃঙ্খল দিয়ে রপ্তানি শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান; বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। খামারি যে দাম পান আর ভোক্তা যা দেন, তার ব্যবধান কমাতে সরকার, শিল্প, শিক্ষাবিদ ও খামারিদের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে বক্তারা একমত হন। সংগঠনটির ১৪তম আন্তর্জাতিক সেমিনার হবে ১৬-১৭ মার্চ ২০২৭ এবং পোল্ট্রি শো ১৮-২০ মার্চ ২০২৭।
ছবি: প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন) (মিরপুরের কেন্দ্রীয় মুরগি খামার)
সূত্র: কৃষি সংবাদ





মন্তব্য
(০)