যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় এক-চতুর্থাংশ নদী ও খালে আগাছানাশক অ্যাট্রাজিন এমন মাত্রায় আছে, যা দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA, ইপিএ) নিজেই জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর মনে করে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির এক বিশ্লেষণে এ তথ্য এসেছে। সংগঠনটির পরিবেশ-স্বাস্থ্য বিজ্ঞান পরিচালক নাথান ডনলির (Nathan Donley) নেতৃত্বে করা গবেষণার হিসাবে, প্রায় ১০ লাখ মাইল জলপথ আক্রান্ত, আর দেশের ভূপৃষ্ঠের পানির প্রতি পাঁচটি খাবার পানি সংগ্রহকেন্দ্রের একটি এসব নদী থেকে পানি তোলে।
গ্লাইফোসেটের পর অ্যাট্রাজিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত আগাছানাশক; বছরে প্রায় ৭ কোটি পাউন্ড ব্যবহার হয়, মূলত ভুট্টা, সরগম ও আখক্ষেতে চওড়া পাতার ও ঘাসজাতীয় আগাছা দমনে। বিশ্লেষণে নদী ও খালের পর্যবেক্ষণ তথ্য ইপিএর নিজস্ব জলজ-প্রাণী মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হওয়া ইপিএর অ্যাট্রাজিন নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনাও যাচাই করেছে সংগঠনটি; এতে জলাধারভিত্তিক ঘনত্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তাদের হিসাবে, এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে দূষিত জলপথের মাত্র ১ শতাংশ নিরাপদ মাত্রায় নামবে। ১৪ অক্টোবর সংগঠনটি ও সহযোগী পরিবেশ সংগঠনগুলো ইপিএর বিরুদ্ধে মামলা করেছে; অভিযোগ, সংস্থাটি জলপথ ও খাবার পানিকে অ্যাট্রাজিন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। ২০২০ সালে অ্যাট্রাজিনের পুনঃঅনুমোদন নিয়ে আলাদা একটি মামলা ইপিএর নতুন ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত আছে।
অক্টোবরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ-স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন দপ্তর অঙ্গরাজ্যের প্রপোজিশন ৬৫ কর্মসূচিতে অ্যাট্রাজিনকে জ্ঞাত ক্যানসার-সৃষ্টিকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। সেন্টারের প্রতিবেদন অ্যাট্রাজিনকে লিম্ফোমা, স্তন ক্যানসার, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস ও জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত করেছে; তবে এই যোগসূত্র সংগঠনটির নিজস্ব গবেষণা-সারাংশের, ইপিএর নতুন কোনো ঝুঁকি-সিদ্ধান্তের নয়, আর ইপিএর বর্তমান নিবন্ধনে অ্যাট্রাজিনকে এভাবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশসহ ৬৩টি দেশে অ্যাট্রাজিন নিষিদ্ধ। প্রধান প্রস্তুতকারক সিনজেন্টা বলছে, লেবেলের নির্দেশ মেনে ব্যবহার করলে পণ্যটি নিরাপদ; কৃষিরাসায়নিক শিল্পের যুক্তি, আগাছা দমন, কম চাষ ও কম খরচে এর মূল্য অধিকারকর্মীদের গবেষণায় পাওয়া ঝুঁকির চেয়ে বেশি। মামলা বা নতুন তথ্য নিয়ে ইপিএ প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
ইপিএর নতুন শর্ত, অঙ্গরাজ্যের ক্যানসার-তালিকা বা আদালতের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম কড়া হলে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ভুট্টা, সরগম ও আখচাষিদের আগাছানাশকের খরচ ও আগাছা দমনের কৌশল বদলাতে পারে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কীটনাশক মানদণ্ডের ব্যবধান কমবে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)