বিশ্বে গরুর পাল চক্র অনুযায়ী সর্বনিম্ন অবস্থানের দিকে যাওয়ায় গরুর মাংসের বাড়তি চাহিদা মেটাতে নিউজিল্যান্ড ভালো অবস্থানে আছে। ওয়েলিংটনে রেড মিট সেক্টর সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল অ্যাগ্রিট্রেন্ডসের বিশ্লেষকেরা।
ব্রেট স্টুয়ার্ট বলেন, আমদানি করা ৩ লাখ টন গরুর মাংসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মার্কিন খাতের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে। তার ভাষায়, ‘পাল বাড়াতে হলে দাম যতটা সম্ভব উঁচু থাকা দরকার, তাতেই খামারিরা পাল বাড়াতে উৎসাহ পান।’ তিনি আরও বলেন, কম আমদানি দাম ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই: ‘মাংস ২৫ শতাংশ সস্তা হবে, এমনটা একেবারেই ঘটছে না।’
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সহকর্মী সাইমন কুইল্টির মতে, এতে লাভ কেবল প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলের। অস্ট্রেলিয়ায় এখনো সরবরাহ ঘাটতি, প্রক্রিয়াজাতকারীরা প্রতিটি গাভিতে ২৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার লোকসান দিচ্ছেন, আর এ সমস্যা আরও ১২ থেকে ১৮ মাস চলবে বলে তার ধারণা।
প্রচলিত চক্র মেনে চললে আগামী বছর বিশ্বে গরুর পাল সবচেয়ে ছোট হবে, তারপর প্রায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়বে। কুইল্টি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের তুলনামূলক সুবিধা আছে, কারণ আগামী বছর সেখানে উৎপাদন ৭.৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস।’ মাংসের গরু ও দুগ্ধ গরুর পালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই দেশটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, আর পছন্দের প্রোটিন হিসেবে গরুর মাংস শূকর ও মুরগির মাংস থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। কুইল্টি এর পেছনে উচ্চ প্রোটিনের খাদ্যাভ্যাসের কথা বলেন, জিএলপি-১ ওজন কমানোর ওষুধের সঙ্গে যুক্ত খাদ্যাভ্যাসও যার অংশ; স্টুয়ার্ট বলেন মার্কিন মাংসের মান ও নিরাপত্তা বাড়ার কথা।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ফার্মার্স উইকলি নিউজিল্যান্ড।
ছবি: MaryvanRossen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ




মন্তব্য
(০)