দিনে প্রায় ২ পাউন্ডের নিঃশর্ত মৌলিক আয় পেরুর আমাজনের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা, জীবনমান আর বন সংরক্ষণের উন্নতির সঙ্গে যুক্ত, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের দুই বছরের গবেষণায় এমন ফল পাওয়া গেছে, জানিয়েছেন ডাউন টু আর্থের হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
জলবায়ুবিষয়ক দাতব্য প্রতিষ্ঠান কুল আর্থের সহায়তায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে তিনটি আশানিঙ্কা (Asháninka) ও ইয়ানেশা (Yanesha) গ্রামের ২১১ জন অংশ নেন। তাঁরা কোনো শর্ত ছাড়াই ১,০৩২ সোল করে নগদ অর্থ পান, সঙ্গে পান সামাজিক সংগঠনের সহায়তা। গবেষকদের মতে, সংরক্ষণের নির্দিষ্ট কাজের শর্ত না জুড়ে আর্থিক নিরাপত্তা দিলে মানুষ জীবিকা উন্নত করার পাশাপাশি বন রক্ষার সামর্থ্যও বাড়াতে পারে।
প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী পরিবেশবান্ধব চর্চা নিয়েছেন, ৮৭ শতাংশ সংরক্ষণ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন: সিডার, মেহগনি ও বাঁশের মতো দেশি গাছ লাগানো, বন পোড়ানো কমানো, ঝরনা রক্ষা আর জৈব বর্জ্যের গর্ত তৈরি। কাজের খোঁজে সাময়িকভাবে গ্রাম ছাড়ার হার ৪৩ থেকে ১৮ শতাংশে নেমেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবার চাষের জমি বাড়িয়েছে, মূলত পড়ে থাকা জমি আবার চাষে এনে; কেউ ঘাস কাটার মোটরচালিত যন্ত্র কিনেছেন, কেউ কফি ও কোকো চাষ শুরু করেছেন।
খাদ্য নিরাপত্তায় বড় উন্নতি হয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা পরিবার ৭৩ থেকে ২৬ শতাংশে, বেলা বাদ দিয়ে খাওয়া পরিবার ৪৯ থেকে ২২ শতাংশে, আর সারা দিন না খেয়ে থাকা পরিবার ২৪ থেকে ১৫ শতাংশে নেমেছে। খাদ্যতালিকায় শুধু কাসাভার বাইরে মাংস, মাছ, ডিম ও সবজি বেড়েছে; প্রশিক্ষণে গ্রামে বীজ ব্যাংক আর পূর্বপুরুষের ফসল চাষও শুরু হয়েছে।
জীবনমানও বেড়েছে: ৫৫ শতাংশ পরিবার টিনের চালা দিয়েছে, ৫১ শতাংশ পাইপের পানির সংযোগ উন্নত করেছে, শৌচাগারহীন পরিবার ৯ থেকে ২ শতাংশে নেমেছে, গ্যাসের চুলা ব্যবহার ২৩ থেকে ৬০ শতাংশে উঠেছে, আর সঞ্চয় থাকা পরিবার ৪৯ থেকে ৭০ শতাংশ হয়েছে।
ছবি: Klaus Schönitzer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)