হৃদ্রোগ অনেক সময় চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে, আর বাংলাদেশের বড় ঘাটতি হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন বগুড়ার বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএসের উপনির্বাহী পরিচালক ও হেলথ সেক্টরের প্রধান ডা. মো. মতিউর রহমান।
তিনি জানান, এ বছর ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের প্রতিপাদ্য "ডোন্ট মিস আ বিট"। তাঁর ভাষায়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অল্প হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাওয়া, পা ফোলা, চোয়াল বা পিঠে ব্যথা, বমিভাব, ঠান্ডা ঘাম কিংবা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হৃদ্রোগের লক্ষণ হতে পারে। নারী, ডায়াবেটিসের রোগী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রচলিত লক্ষণ না-ও থাকতে পারে, আর উচ্চ রক্তচাপ কোনো উপসর্গ ছাড়াই ক্ষতি করে।
তাঁর দেওয়া হিসাবে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদ্রোগ ও সংশ্লিষ্ট কারণে মারা যায়। উচ্চ রক্তচাপের হার ২৭.৩ শতাংশ, ডায়াবেটিস ৯.৮ শতাংশ ও উচ্চ কোলেস্টেরল ৩০.২ শতাংশ। অনেকে নিজের ঝুঁকিই জানেন না, আর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের বড় অংশের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই।
ডা. মতিউর রহমান বলেন, অনেকে অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমবার রক্তচাপ বা শর্করা মাপেন, ওষুধ শুরুর পরও ফলোআপ করেন না। আরেক সমস্যা ভৌগোলিক: হৃদ্রোগ চিকিৎসার বড় অংশ দীর্ঘদিন ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল, অথচ উত্তরাঞ্চলের রোগীর ঢাকায় পৌঁছানোর সময়টুকুই জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
প্রতিরোধে তাঁর পরামর্শ: নিয়মিত রক্তচাপ, শর্করা ও ওজন মাপা, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, লবণ ও চিনি কম খাওয়া, তামাক ও ই-সিগারেট বর্জন, শাকসবজি খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্তচাপ মাপাকে নিয়মিত সেবার অংশ করার কথাও বলেন তিনি।
টিএমএসএস হার্ট সেন্টার কার্ডিওলজি বহির্বিভাগ দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিশেষায়িত সেবা যুক্ত করেছে এবং তৃণমূলে রক্তচাপ, শর্করা ও ওজন মেপে ঝুঁকি শনাক্ত করছে বলে জানান তিনি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আমদানিনির্ভর ব্যয়বহুল উপকরণ, দরিদ্র রোগীর খরচ, বিশেষজ্ঞ জনবল এবং রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রথম আলোর বগুড়া প্রতিবেদক আনোয়ার পারভেজ।
ছবি: Pöllö / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)