সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭২%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

একজন সফল নারীর গল্প

তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি, পাল্টে দিয়েছেন গ্রামের চিত্র।

তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি, পাল্টে দিয়েছেন গ্রামের চিত্র।

বিষমুক্ত সবজিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মামুদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গৃহবধূ রিনা বেগম। তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি, পাল্টে দিয়েছেন গ্রামের চিত্র। অনেকের কাছে রিনা বেগম এখন দৃষ্টান্ত।

দীর্ঘদিনের চেষ্টা আর স্বামীর প্রেরণায় তিনি এখন সফল চাষী। তার এই সফলতা শুধু দেলদুয়ারেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি এখন পরিচিত।

কৃষক পরিবারে জন্ম রিনা বেগমের। তাই জন্মের পর থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে তার পরিচয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসারের কাজ করেছেন, কৃষি কাজে সহযোগিতা করেছেন বাবা-মাকে। বিয়ে পর শ্বাশুড়ির কাছ থেকে বাড়ির আঙ্গিনা ও আশপাশের জায়গায় সবজি চাষ শিখতে থাকেন। ১৯৯১ সালে ৭০ শতাংশ জায়গা বর্গা নিয়ে শ্বাশুড়ির পরামর্শ মতো রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহার করে সবজিসহ ধান, পাট আবাদ শুরু করেন। প্রথমেই ভালো ফলন হয়। ১৯৯৭ সালে বাবার সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে ১শ’ দশ শতাংশ জায়গায় নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করেন রিনা বেগম। ২০০৭ সালে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর দেন তিনি। বর্জন করেন রাসায়নিক সার। নিজেই তৈরি করতে থাকেন জৈব সার। এজন্য এলাকার অন্যচাষীরা তাকে বিদ্রুপ করেছেন। কিন্তু তাতে তিনি দমে যাননি। রিনা বেগম বলেন, শ্বাশুড়ি বলতো, বাজারের সারে আবাদ করলে সেই ফসল খেয়ে রোগ ব্যাধি হয়। তার (শ্বাশুড়ির) জ্ঞান নিয়ে তার পরামর্শ মতো বাজারের সার বাদ দিয়ে নিজের তৈরি সার দিয়ে আবাদ করি। পরে বিভিন্ন এনজিও এগিয়ে আসে। তারা উৎসাহ দেয়।

বিষ পরিবেশ নষ্ট করে। মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করে। দেহ অচল হয়ে যায়। এটা খেয়ে শরীরে যে রোগ হচ্ছে তার চিকিৎসা করতেই তো টাকা সব শেষ। এ জন্যই রিনা বেগম জৈব সার ব্যবহার করে ফসল আবাদ করছেন। বর্তমানে তিনি বেগুন, চাল কুমড়া, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, মরিচ, হলুদ, কাকরোল, কচু, লেবু চাষ করছেন। অন্য মৌসুমে অন্য ফসল আবাদ করে থাকেন তিনি।

কৃষি কাজের পাশাপাশি রিনা বেগম বিভিন্ন ফসলের বীজও সংরক্ষণ করছেন। ২০০২ সালে তার নিজ ঘরের একটি কক্ষে প্রথম ৮ প্রকাশের বীজ দিয়ে তিনি তার বীজ সংগ্রহশালা চালু করেন। এখন তার সংগ্রহ শালায় প্রায় ১০০ জাতের সবজি ও ফসলের বীজ রয়েছে। তিনি যেখানেই যান সেখানে যদি কোন ভালো জাতের বীজ পান তা তিনি সংগ্রহ করেন। রিনা বেগম বলেন, বীজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো বীজ হলে ভালো ফসল হয়।

রিনা বেগমের বিষমুক্ত চাষাবাদের কথা এক সময় ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। সরকারের দৃষ্টিও পড়ে তার প্রতি। ফলে ২০১৫ সালে সরকার রিনা বেগমকে আদর্শ কৃষক হিসেবে ঘোষণা করে। একই বছর জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এশিয়ার চারজন কৃষকের মধ্যে রিনা বেগমকে আদর্শ কৃষক হিসেবে পুরস্কার দেয়। বিশ্ব খাদ্য দিবসে থাইল্যান্ডে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

বিষমুক্ত ফসল চাষে রিনা বেগমের দক্ষতা দেখে সরকার থেকে ২০০৯ সালে ‘মামুদপুর মধ্যপাড়া মহিলা সমবায় সমিতি, নামে একটি সমিতি করে দেয়া হয়। রিনা বেগম সেই সমিতির সভাপতি। সমিতির সভায় ফসলের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানের পথ দেখান তিনি। সেখানকার পরামর্শে ওই মহিলারাও তাদের আঙ্গিনাসহ আশপাশের জমিতে বিষমুক্ত ফসল আবাদ করছেন।

রিনা বেগম বলেন, আমার মতো নারীরা কাজ করে সামনের দিকে আগাতে পারবে। আমরা একদিন থাকবো না। যারা থাকবো তারা যেন বিষমুক্ত ফসল আবাদ করে রোগমুক্ত জীবনযাপন করতে পারে। বাজারের সার ব্যবহার করতে করতে একদিন হয়তো মাটি পাথর হয়ে যাবে। তখন আর ভালো ফসল আবাদ সম্ভব হবে না। তাই নিরাপদ খাদ্যের জন্য কৃষকের ঘরে বীজ সংগ্রহ রাখা এবং জৈব সার ব্যবহার করে ফসল আবাদ করা। এ প্রক্রিয়া আশপাশের গ্রামসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

ঢাকা ট্রিবিউনসূত্র

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোবিজ

মিয়ানমারে সার পাচার ঠেকাতে উপকূলে কোস্ট গার্ডের ‘অপারেশন সার সুরক্ষা’

দেশে ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া কৃষক পর্যায়ে ১,৩৫০ টাকা, মিয়ানমারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়; জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫৫ টন সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

আমার দেশ২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

শার্শার পুটখালীতে বাড়ছে মিষ্টি আখের আবাদ, বিঘায় আয় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত

যশোরের শার্শা উপজেলায় এবার প্রায় ৪৭ হেক্টরে আখ হয়েছে, বেশির ভাগ বেনাপোলের পুটখালীতে; বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয়ের আশা কৃষকদের।

কৃষি সময়২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

নওগাঁয় পাটের ফলন ও আঁশের মান দুটোই ভালো, মণে দাম ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত

নওগাঁয় এবার পাটের ফলন ও আঁশের মান ভালো হয়েছে; মান্দার সতীহাটে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সময়২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)