যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী এলাকায় মিষ্টি আখ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন শতাধিক কৃষক। ধান, পাট, গম, ভুট্টা আর সবজির জন্য পরিচিত সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় অন্য ফসলে লাভ কম হওয়ায় কম খরচের আখের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে, যার বেশির ভাগ পুটখালীতে, ফলনও ভালো। এখানে গান্ডারি, লিপস্টিক সুন্দরী, চায়না লাল সুন্দরী ও ঈশ্বরদী-১৬ জাতের আখ চাষ হচ্ছে, এবং এসব জাতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
কৃষকদের হিসাবে এক বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা; ভালো ফলন হলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে স্বল্পমেয়াদি সবজিও চাষ করছেন তাঁরা। শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক এখন আখ চাষে যুক্ত।
আখ কেনাবেচা ঘিরে পথের ধারে অস্থায়ী বাজার জমে উঠেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভ্যানে করে আখ বিক্রি হচ্ছে, কেউ ভ্যানে যন্ত্র বসিয়ে রস বিক্রি করছেন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সরাসরি বাগানে এসে আখ কিনছেন, আর বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা বাগান থেকেই আখ নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক আরমান হোসেন বলেন, আখের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক নতুন করে উৎসাহিত হচ্ছেন। নাভারন থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর জানান, বাজারে চাহিদা ও লাভ বেশি থাকায় তিনি পুটখালী থেকে আখ কিনছেন। কৃষি দপ্তর মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছে এবং আগামী বছর আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছে।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের যশোর সংবাদদাতার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Steve Evans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)