ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জে বিএডিসির সার গুদামের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন, অথচ সেখানে মজুত আছে প্রায় ৭ হাজার টন। গুদামের সামনে আরও ৫৭টি সারবোঝাই ট্রাক দিনের পর দিন খালাসের অপেক্ষায়। এমন মজুতের মধ্যেও আমন ও সবজির মৌসুমে কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে।
গুদামের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মো. রাহাত জানান, অক্টোবরের নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দ এসেছে ৯ হাজার ৫৫৯ টন। মজুত সারের মধ্যে টিএসপি ২ হাজার ৯২১ টন, এমওপি ২ হাজার ৪০ টন এবং ডিএপি ২ হাজার ৭ টন। গুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডিলারদের মধ্যে বরাদ্দ ভাগ না করায় ট্রাকগুলো খালাস করা যাচ্ছে না। জেলায় বিএডিসির ১৪৮ জন ও বিসিআইসির ৬২ জন ডিলার কৃষকের কাছে সার পৌঁছান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মাজেদুল ইসলাম বলেন, অক্টোবরের বরাদ্দ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অগ্রিম তোলার নির্দেশনা থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ে তা তোলা হয়নি, তবে নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক ছিল না। সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত ২ হাজার টন টিএসপি ও ১ হাজার টন এমওপি দেওয়া হয়েছে, আর অক্টোবরের নিয়মিত বরাদ্দ ৭-৮ অক্টোবরের দিকে ছাড়ার পরিকল্পনা আছে। তাঁর দাবি, ডিলারদের কাছে আগের বরাদ্দের সার পর্যাপ্ত আছে।
ডিলাররা অবশ্য বরাদ্দ কম বলে অভিযোগ করছেন। সদরের চিলারং ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার রাজিউর রহমান জানান, সেপ্টেম্বরে তিনি পেয়েছেন ৪১ টন ইউরিয়া, ৭ টন টিএসপি, ১২ দশমিক ২৫ টন ডিএপি ও সাড়ে ৭ টন এমওপি, যা মাঠের চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম। তাঁর মতে, নতুন ডিলার বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান ডিলারদের বরাদ্দ বাড়ানোই কার্যকর সমাধান।
নারগুন কহরপাড়ার কৃষক মামুনুর রশীদ জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপির বস্তা তিনি খোলাবাজারে গোপনে কিনেছেন ১ হাজার ৫৫০ টাকায়, আর একই দামের ইউরিয়া ১ হাজার ৬০০ টাকায়। বেগুনবাড়ির কৃষক ইউসুফ আলীর ৩০ বিঘা জমির জন্য আমনের শেষ পর্যায়ে অন্তত ছয় বস্তা টিএসপি দরকার, কিন্তু এনআইডি জমা দিয়ে পেয়েছেন মাত্র এক বস্তা। বাকি সার কোথায় যাচ্ছে, তার তদন্ত চান তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁওয়ের সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, গুদামে বিপুল সার আর বাইরে ট্রাকের সারি থাকার পরও মাঠে কৃষক সার পাচ্ছেন না। এখন বড় প্রশ্ন সার আছে কি না তা নয়; প্রশ্ন হলো প্রয়োজনের সময় সেই সার কৃষকের কাছে কোথায়, কীভাবে এবং কত দামে পৌঁছাচ্ছে।
প্রতিবেদনটি করেছেন আজকের পত্রিকার ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা




মন্তব্য
(০)