দেশে এক ডজন ডিমের দাম উঠেছে ১৬০ টাকায়, যা প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান এমনকি শ্রীলঙ্কার চেয়েও বেশি। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়; এক মাসে হালিতে বেড়েছে ৫ টাকা, আর এক বছরে বৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি। দামের চাপে শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত অনেকে ডিম খাওয়া অর্ধেকে নামিয়েছেন; যাঁরা দিনে দুই বেলা খেতেন, তাঁরা এখন এক বেলায় সীমিত।
প্রতিবেদনে দেওয়া বাংলাদেশি টাকার হিসাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক ডজন ডিমের গড় দাম প্রায় ১৪৬ টাকা, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১১৬ টাকা, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১৩৮ টাকা। শুধু সংঘাতবিধ্বস্ত মিয়ানমারে দাম ৪৯২ টাকা। মিয়ানমার বাদ দিলে দক্ষিণ এশিয়ায় এখন বাংলাদেশেই ডিমের দাম সবচেয়ে বেশি।
বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি মোকামে বাড়তি দাম আর উৎপাদন খরচই এর কারণ: মুরগির খাদ্যের চড়া দাম, ওষুধ, খামারের বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। বর্ষায় বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হওয়ায় ডিমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াকেও কেউ কেউ কারণ বলছেন। তবে অনেক বিক্রেতার মতে, সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে আড়তদার ও বড় পাইকারদের কারসাজিই মূল কারণ।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিমের বাজারে সবসময়ই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে। উৎপাদন ও সরবরাহ গুটিকয়েক বড় করপোরেট কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় প্রতিযোগিতা কমছে। তাঁর মতে, গ্রামীণ পারিবারিক পোলট্রি খামারের উৎপাদন বাড়ানো গেলে নানা উৎস থেকে সরবরাহ আসত এবং একচেটিয়া প্রভাব ভেঙে বাজারে ভারসাম্য ফিরত।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, পাইকারি মোকাম ও আড়তে নিয়মিত তদারকি অভিযান চলছে এবং অনিয়ম পেলে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে তদারকির মাত্রা এমনভাবে রাখতে হচ্ছে, যাতে চাপের মুখে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন।
প্রতিবেদনটি দিনাজপুর টিভি ডেস্কের।
ছবি: Gisela Francisco / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)