রপ্তানিনির্ভর ভারতের চাষের চিংড়ি এবার দেশের বাজারেও বড় করে বিক্রির তাগিদ উঠেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত 'শ্রিম্প রিটেইল' (Shrimp Retail) আয়োজনের পঞ্চম আসরে চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাদ্যের পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের মানুষ একত্র হয়ে আলোচনা করেন, কীভাবে রপ্তানিমুখী শিল্পকে দেশীয় ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে নেওয়া যায়।
দুই দিনের এ আয়োজন করে চেন্নাইয়ের আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব ব্র্যাকিশওয়াটার অ্যাকোয়াকালচার (ICAR-CIBA, সিবা), সঙ্গে ছিল পি২সি কমিউনিকেশন; সহ-পৃষ্ঠপোষক ন্যাশনাল ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এনএফডিবি)। প্রায় ৩২৫ জন অগ্রসর চিংড়িচাষি, বাজারের শীর্ষ ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা, উদ্যোক্তা ও গবেষক এতে অংশ নেন। প্রদর্শনী এলাকায় এনএফডিবি, আইসিএআরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্প অংশীদারদের স্টল ছিল।
আইসিএআরের উপমহাপরিচালক (মৎস্য) ড. জে কে জেনা বলেন, এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান, চাষি ও বাজারের মধ্যে দৃঢ় সংযোগ জরুরি। দেশের বাজার বাড়াতে কী লাগবে, তারও তালিকা দেন তিনি: খুচরা বাজার, মূল্য সংযোজন, ব্র্যান্ডিং, কোল্ড চেইন ও পরিবহন, টেকসই উৎপাদন এবং খামার থেকে খাবারের টেবিল পর্যন্ত মজবুত শৃঙ্খল।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ইএসি-র যুগ্ম সচিব ড. কে কে ত্রিপাঠী প্রচলিত 'ব্লু ইকোনমি' ধারণা থেকে বৃহত্তর 'ব্লু পারস্পেকটিভ'-এ যাওয়ার আহ্বান জানান এবং মৎস্য খাতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। এনএফডিবির প্রধান নির্বাহী ড. বি কে বেহেরা বলেন, দেশে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের ভোগ বাড়াতে বোর্ড ভূমিকা রাখতে পারে। সিবার সাবেক পরিচালক ড. কুলদীপ কে লাল মনে করেন, ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসই দেশে চিংড়ির বাজার বড় করার বড় সুযোগ।
সিবার পরিচালক ড. এম কৈলাসম প্রতিষ্ঠানটির কাজের কথা জানান: উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি, রোগ ব্যবস্থাপনা, দেশি চিংড়ির খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ, প্রিসিশন অ্যাকোয়াকালচার এবং দেশি ভারতীয় সাদা চিংড়ির (Penaeus indicus) জিনগত উন্নয়ন। আয়োজনে সিবা 'শ্রিম্প ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড' এবং আয়োজনে ভূমিকার জন্য 'শ্রিম্প রিটেইল অ্যাডভাইজরি অ্যাওয়ার্ড' পায়।
আয়োজকদের মতে, ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখিয়েছে যে দেশের সামুদ্রিক খাদ্যের বাজারের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিজ্ঞান, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, খুচরা বিক্রি ও ভোগের মধ্যে আরও সমন্বয় দরকার, আর লোনাপানির জলজ চাষে গবেষণাকে বাজার-সংযোগ ও মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপ দিতে হবে।
প্রতিবেদনটি চেন্নাইয়ের আইসিএআর-সিবার বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে।
ছবি: Gayandream / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)