হিমাগারে রেখে ভালো দাম পাওয়ার আশায় থাকা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখন লোকসানে। হিমাগার ভাড়া, পরিবহনসহ খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকায়। কেজিতে লোকসান ৫ থেকে ৬ টাকা।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমে মাঠ থেকে আলু কেনাবেচা হয়েছিল ১০ থেকে ১২ টাকা কেজিতে; পরে দাম বাড়বে ভেবে অনেকে হিমাগারে রাখেন। এখন চাহিদা কম। সদরের বেগুনবাড়ির কৃষক আরমান হোসেন বলেন, খরচ মিলিয়ে ১৯ থেকে ২০ টাকা পড়া আলু ১৪ টাকায় বেচতে হচ্ছে। রানীশংকৈলের কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব জানান, গত দুই-তিন মৌসুমেও লোকসান হয়েছে, এবার পুঁজি হারিয়েছেন; এভাবে চললে কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফেরাবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, এ মৌসুমে ৩০ হাজার হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আলু আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টরে, এর মধ্যে আগাম জাত প্রায় ১০ হাজার হেক্টরে। জেলার ১৯টি হিমাগারে এখন প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত। সদরের কৃষ্ণপুরের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে প্রচুর আলু বের হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হিমাগারে পড়ে আছে।
শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আলু ওঠানো-নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় হিমাগারের শ্রমিকদের আয়ও কমেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, লাভের আশায় আলু রাখা কৃষকেরা আগের চেয়ে অনেক কম দামে লোকসানে পড়েছেন। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত বাজারজাতের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ নিলে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিবেদনটি করেছেন ঢাকা মেইলের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মো. জাহিদ হাসান মিলু।
ছবি: Suyash Dwivedi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)