জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) ভুট্টা, সয়াবিন ও তুলা গত চার দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বেশি ও স্থিতিশীল ফলন দিয়েছে এবং জলবায়ু উষ্ণ হওয়ায় ফসল উৎপাদনের শীতল উত্তরাঞ্চলের দিকে সরে যাওয়াকে লক্ষণীয়ভাবে ধীর করেছে। নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি (১৮ সেপ্টেম্বর সহযোগী ব্রিফিং) পরিচালনা করেন টেক্সাস এএন্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের ক্যারোলাইন ইফান ডং, চেংচেং জে. ফেই, ব্রুস এ. ম্যাককার্ল ও শিংগুও ওয়াং; সঙ্গে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির ডেভিড জিলবারম্যান। লেখকেরা ফসল জৈবপ্রযুক্তিকে জলবায়ু অভিযোজনের ‘অবমূল্যায়িত হাতিয়ার’ বলেছেন।
দলটি ১৯৭৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ভুট্টা, সয়াবিন ও তুলার কাউন্টিভিত্তিক ফলন, আবাদি এলাকা, জলবায়ু ও জিএম গ্রহণের হার বিশ্লেষণ করে—জৈবপ্রযুক্তির আগের যুগ, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে আগাছানাশক-সহনশীল ও কীট-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের বিস্তার এবং পরে যুক্ত ও খরা-সহনশীল জাত—সবই এর মধ্যে। তিন ধাপের মডেলে গড় ফলন, বছরে বছরে ওঠানামা ও চাষের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর প্রভাব আলাদা করা হয়।
যেসব কাউন্টিতে জিএম গ্রহণ বেশি, সেখানে ভুট্টা ও সয়াবিনের গড় ফলন বেশি ও ওঠানামা কম ছিল, আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রত্যাশিত ক্ষতির একাংশ তা পুষিয়ে দিয়েছে। উষ্ণায়নে যুক্তরাষ্ট্রে চাষ কয়েক দশক ধরে উত্তরে সরছে; জিএম গ্রহণ সেই গতি কমিয়ে কিছু প্রচলিত উৎপাদন এলাকাকে বেশি দিন টিকিয়ে রেখেছে।
লেখকেরা সতর্ক করেছেন, ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ, ফসলবিন্যাস ও সেখানে বাজারজাত বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রযোজ্য; স্থানীয় যাচাই ছাড়া অন্য জলবায়ু বা চাষব্যবস্থায় একই ফল ধরে নেওয়া যাবে না। খরা বা তাপ সহনশীলতার জন্য বিশেষ প্রজননের বিকল্প হিসেবেও জিএম বৈশিষ্ট্যকে দেখানো হয়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জিএম তুলা অনুমোদন দিলেও জিএম সরিষার মতো খাদ্যফসল আটকে রাখা ভারতও জিন-সম্পাদিত ও জিএম ফসলের নিয়ম পর্যালোচনা করছে, আর এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সেই বিতর্কে গুরুত্ব পাবে।
ছবি: Kimberly Vardeman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)