যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বুনো কয়োট ও শিয়ালের দেহে একাইনোকক্কাস নামের ফিতাকৃমি পেয়েছেন পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির কলেজ অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের গবেষকেরা। এই পরজীবী বুনো বা পোষা কুকুর থেকে মানুষে ছড়িয়ে যকৃৎ বা ফুসফুসে জটিল সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। গবেষণাটি ওয়ান হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলটি প্রায় ২৭ হাজার পোষা কুকুর, ৫৯টি শিকারি কুকুর এবং ২৬০টির বেশি বুনো কুকুরজাতীয় প্রাণীর পরজীবীর তথ্য তুলনা করেছে। পোষা প্রাণীর চেয়ে বুনো প্রাণীর দেহে পরজীবী বেশি পাওয়া গেছে, আর শিকারি কুকুরের দেহে হুকওয়ার্ম ও হুইপওয়ার্মের মতো কিছু পরজীবী বাড়ির কুকুরের চেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ যেসব প্রাণী বাইরে বেশি থাকে বা বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শে আসে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
পশুচিকিৎসা ও জৈবচিকিৎসা বিজ্ঞানের সহযোগী শিক্ষণ অধ্যাপক জাস্টিন ব্রাউন বলেন, পেনসিলভানিয়ার বুনো প্রাণীতে সংক্রমণের হার কম মনে হলেও পশুচিকিৎসক, পোষা প্রাণীর মালিক, শিকারি ও ফাঁদ পাতা মানুষদের জানা দরকার যে পরজীবীটি এখানে আছে। রাজ্যে এটি সম্প্রতি প্রথম শনাক্ত হয়েছে।
একাইনোকক্কাস সাধারণত কুকুরের দেহে কোনো দৃশ্যমান অসুস্থতা তৈরি করে না, আর অণুবীক্ষণে এর ডিম সাধারণ ফিতাকৃমির ডিমের প্রায় হুবহু, তাই প্রচলিত মলপরীক্ষায় এটি ধরা না পড়তে পারে। গবেষকেরা অ্যান্টেক ডায়াগনস্টিকসের কিস্ক্রিন জিআই প্যারাসাইট পিসিআর পরীক্ষা ব্যবহার করেছেন, যা কুকুর-বিড়ালের ২০টি পরিপাকতন্ত্রের পরজীবীর ডিএনএ শনাক্ত করে, যার কয়েকটি মানুষে ছড়াতে পারে। পেন স্টেটের সাবেক শিক্ষার্থী নোয়েল কুন বন্যপ্রাণীর নমুনায় দুই পদ্ধতি তুলনা করে দেখেছেন, ডিএনএ পরীক্ষা পরজীবী খুঁজে পেতে ও দেখতে একই রকম প্রজাতি আলাদা করতে বেশি কার্যকর।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, কোনো একক পরীক্ষাই নিখুঁত নয়, কারণ বন্যপ্রাণী এমন পরজীবীও বহন করতে পারে যা এই প্যানেলে নেই। তাই নজরদারিতে আণবিক ও প্রচলিত দুই পদ্ধতি মিলিয়ে ব্যবহারের পরামর্শ তাঁদের। মানুষ, পশু ও পরিবেশের স্বাস্থ্য যে একসূত্রে বাঁধা, ওয়ান হেলথ ধারণার সেই দিকটিই গবেষণায় উঠে এসেছে।
ছবি: CDC/Dr. L.L.A. Moore, Jr / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)