ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো তাদের বরফের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক ও সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের যৌথ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে বলে জানিয়েছে দেশ রূপান্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে হিমবাহগুলোর গড় পুরুত্ব ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ মিটার কমেছে। গত পাঁচ বছরে দেশটি মোট হিমবাহ-বরফের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারিয়েছে। এ বছর কতগুলো ছোট হিমবাহ পুরোপুরি বিলীন হয়েছে, সে হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের বরাতে বিজ্ঞানীরা এর কারণ হিসেবে শীতে কম তুষারপাত আর গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কথা বলছেন।
দেশটির সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ এ বছর সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে, আর গ্লেসিয়ার দ্য সঁ ফ্লেরঁর গড় পুরুত্ব কমেছে ৪ মিটারের বেশি। গবেষকদের হিসাবে শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে সুইস হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে, যা দেশটির পরিবারগুলোর এক বছরের খাবার পানির চাহিদার চার গুণের বেশি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু ওপরের বরফ গলছে না, হিমবাহের ভেতরেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। বরফের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানি ভেতরে গর্ত ও গহ্বর তৈরি করছে, পরে সেগুলোর ছাদ ধসে পড়ছে। ফলে হিমবাহ ভেতর থেকে ভেঙে আরও দ্রুত ছিন্নভিন্ন হচ্ছে।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক, ইটিএইচ জুরিখের হিমবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস হুস বলেন, কয়েক বছর আগেও যেখানে কয়েক শ মিটার পুরু বরফ ছিল, সেখানে এখন দাঁড়ালে চাঁদের পৃষ্ঠের মতো পাথুরে মরুভূমি মনে হয়। তাঁর ভাষায়, প্রায় প্রতিবছরই এখন চরম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যদিও উত্তর আফ্রিকার ধুলা তুষারে জমে যাওয়া ২০২২ সালের রেকর্ড হারে এবার বরফ গলেনি।
হিমবাহ দ্রুত সংকুচিত হওয়ায় ভবিষ্যতের পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে ইউরোপের বরফে ঢাকা অঞ্চলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও।
ছবি: Dirk Beyer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)