খামারে পালিত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, শূকর, মুরগি ও হাঁসের কল্যাণ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আজ ২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফার্মড অ্যানিম্যালস ডে বা বিশ্ব খামারের প্রাণী দিবস। বিশ্ব প্রাণী সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দিবসটির শুরু ১৯৮৩ সালে, আর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে তারিখটি বেছে নেওয়া হয়।
মাংস, দুধ ও ডিমের মতো খাদ্যের জোগান আসে এসব প্রাণী থেকে, বিশ্বের বহু মানুষের জীবিকাও এদের সঙ্গে জড়িত। তবে দিবসটির মূল বার্তা হলো, প্রাণীরা অনুভূতিসম্পন্ন জীব। তাদের খাদ্য, পানি, চলাফেরা ও বিশ্রামের সুযোগ, সামাজিক আচরণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা খামার ব্যবস্থাপনারই অংশ।
বিশ্ব প্রাণী সুরক্ষা সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর প্রায় ৮০ বিলিয়ন স্থলচর প্রাণী কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়, এবং এর বড় একটি অংশ পালিত হয় শিল্পভিত্তিক বা ফ্যাক্টরি ফার্মিং ব্যবস্থায়। সংস্থাটির মতে, সীমিত জায়গায় অতিরিক্ত প্রাণী রাখা, স্বাভাবিক পরিবেশের অভাব এবং দ্রুত উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রজনন প্রাণীকল্যাণের বড় চ্যালেঞ্জ।
বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত। সংস্থাটি বলছে, অতিঘনত্ব ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা খামারে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে ওষুধপ্রতিরোধী জীবাণু বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকিও আলোচনায় আসে।
পরিবেশের দিক থেকেও শিল্পভিত্তিক পশুপালনের প্রভাব আছে: পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য বন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তন, পানি ও জমির ব্যবহার এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী জাতের গৃহপালিত প্রাণী কমে যাওয়ায় কিছু জাত সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
খামারিদের জন্য দিবসটির বার্তা হলো, প্রাণীর প্রজাতি ও জাত অনুযায়ী জায়গা, আচরণ, জলবায়ু ও চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনা করে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এতে প্রাণীকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যব্যবস্থা একসঙ্গে সুরক্ষিত হয়।
প্রতিবেদনটি ডেইলি অবজারভারের অনলাইন ডেস্কের।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডেইলি অবজারভার




মন্তব্য
(০)