নোয়াখালীর ১০টির বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁ এখন থেকে প্রতিদিন কত খাবার অপচয় হচ্ছে, তার হিসাব রাখবে এবং সেই হিসাব ভোক্তাদের সামনে দৃশ্যমান করে রাখবে। খাদ্যক্ষয় ও অপচয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মাইজদীতে এক মতবিনিময় সভায় রেস্তোরাঁ প্রতিনিধিরা এ উদ্যোগের কথা জানান বলে খবর দিয়েছে চ্যানেল আই অনলাইন।
খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল খাদ্যক্ষয় ও অপচয় হ্রাসের রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা। সভা শেষে রেস্তোরাঁগুলোকে Food Waste হিসাবের পোস্টার ও টেবিল স্ট্যান্ড দেওয়া হয়, যেখানে আগের দিন ও চলতি মাসে কত কেজি খাবার নষ্ট হলো, তা লিখে রাখা যাবে।
রেস্তোরাঁ প্রতিনিধিরা জানান, ক্রেতারা অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার অর্ডার করেন, আবার বেঁচে যাওয়া খাবার সঙ্গেও নেন না। বিশেষ করে বাংলা খাবারের হোটেলে পার্সেল কম হওয়ায় অপচয় বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে দৈনিক প্রায় ৫০ কেজি বা তারও বেশি খাবার নষ্ট হয় বলে সভায় জানানো হয়।
অপচয় কমাতে চাহিদামতো পরিমাণে অর্ডারের সুযোগ, অর্ডার বেশি হলে সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাকে জানানো, ওয়েটারদের প্রশিক্ষণ এবং রেস্তোরাঁয় সচেতনতামূলক বার্তা রাখার প্রস্তাব আসে। উদ্বৃত্ত খাবার সংরক্ষণ করে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
নোয়াখালী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে খাদ্য অপচয় কমানো সম্ভব নয়; শৈশব থেকেই খাবারের মূল্য আর প্রয়োজনমতো খাওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। উন্নয়ন সংগঠন বন্ধনের নির্বাহী পরিচালক মো. আমিনুজ্জামানও ছোটবেলা থেকে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন।
খানি বাংলাদেশের মূল বক্তব্যে বলা হয়, দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এখনো বড় বাস্তবতা। জাতিসংঘের খাদ্য অপচয় সূচক ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু বছরে ৮২ কেজি খাবার অপচয় হয়, আর সঙ্গে নষ্ট হয় উৎপাদনে ব্যবহৃত পানি, জ্বালানি ও শ্রম। আয়োজকদের আশা, অপচয়ের পরিমাণ চোখের সামনে থাকলে ক্রেতারা অর্ডারের সময় প্রয়োজনের কথা ভাববেন।
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন




মন্তব্য
(০)