ক্যানসারের চিকিৎসা মানে শুধু ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপি নয়; পরিকল্পিত ও নিয়মিত ব্যায়ামও রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় স্পষ্ট হচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের সূত্রে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, বিশেষ করে কিছু ক্যানসারে নিয়মিত শরীরচর্চা রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে আর জীবনের মান বাড়াতে সাহায্য করে।
কোলন ক্যানসারের রোগীদের নিয়ে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা তিন বছর প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত ব্যায়াম কর্মসূচিতে ছিলেন, তাঁদের ক্যানসার ফেরার ঝুঁকি কম ছিল, জীবনের মানও ভালো ছিল। আট বছর পর ওই রোগীদের ৯০ শতাংশ বেঁচে ছিলেন, কর্মসূচির বাইরে থাকা রোগীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ। স্তন ক্যানসারের রোগীদের নিয়ে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণাতেও ব্যায়াম ও দীর্ঘ বেঁচে থাকার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে।
পরের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একজন রোগীর পুরো ব্যায়াম কর্মসূচিতে প্রায় ৩ হাজার ডলার খরচ হলেও হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি বিভাগে যাওয়া আর অপরিকল্পিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কমিয়ে তা স্বাস্থ্যব্যবস্থার মোট ব্যয় কমাতে পারে। এখন কোলন ক্যানসারের রোগীদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরামর্শ দেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে ৬৬ বছরের লি কোলকারের কথা। মেটাস্ট্যাটিক কিডনি ক্যানসারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর ক্লান্তি আর মস্তিষ্কে ঝাপসা ভাবে ভুগছিলেন তিনি; ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের (ইউপিএমসি) পরামর্শে অনলাইনে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম শুরু করেন। ৬৮ বছরের কিম্বারলি বার্কার মূত্রথলি ও জরায়ুর ক্যানসারের চিকিৎসার পর ব্যথা আর ক্লান্তিতে প্রিয় কাজগুলো ছেড়ে দিয়েছিলেন; ১২ সপ্তাহ প্রশিক্ষকের সঙ্গে আর বাড়িতে ব্যায়ামের পর আবার স্বামীর সঙ্গে সাইকেল চালাচ্ছেন।
ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা গবেষক ক্যাথরিন শ্মিটজ বলেন, ব্যায়াম শুধু শরীরের জৈবিক বিষয় নয়, মানুষের আচরণ ও অভ্যাসেরও বিষয়; তাই রোগীর সক্ষমতা, চিকিৎসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি সাজাতে হয়। শুধু বেশি ব্যায়াম করতে বললে কাজ হয় না, অনেক রোগীর প্রশিক্ষক আর দীর্ঘ তত্ত্বাবধান লাগে।
যুক্তরাষ্ট্রে এমন কর্মসূচি এখনো মূলত বড় ক্যানসার কেন্দ্রে সীমিত, চলে দাতব্য অর্থে বা রোগীর নিজের খরচে। ইউপিএমসি এখন ক্যানসার রোগীদের ব্যায়াম কর্মসূচি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে; প্রথমে স্তন ক্যানসারের রোগীদের জন্য, সফল হলে ২০২৮ সাল থেকে সব ক্যানসারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রোগীরা নিজে থেকে কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শে উপযুক্ত ব্যায়াম বেছে নেবেন।
ছবি: Wolfgang1018 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); ব্যায়ামের প্রতীকী ছবি
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)