জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ সময়মতো ঘুমান না, খানও পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০৮ জন, অর্থাৎ ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়মিত সঠিক সময়ে ঘুমান না; আর ৭৬ শতাংশ পর্যাপ্ত খাবার খান না। জরিপে বিভিন্ন বিভাগের ৩৯২ জন ছাত্র ও ২০৮ জন ছাত্রী অংশ নেন।
জরিপ অনুযায়ী, ৩৯২ ছাত্রের ২৭৯ জন ঘুমাতে যান রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে, বাকি ১১৩ জন রাত ৩টার পর; কেউই রাত ১২টার আগে ঘুমাতে যান না। ২০৮ ছাত্রীর ২০১ জন ঘুমান রাত ১২টার পর। সব মিলিয়ে ৬০০ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জন রাত ১২টার আগে বিছানায় যান। দীর্ঘ পড়াশোনা, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেস বা বাসার পরিবেশকে কারণ হিসেবে বলেছেন শিক্ষার্থীরা।
খাওয়ার চিত্রও উদ্বেগজনক। মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত তিন বেলা খান। ৩৯২ ছাত্রের ৩৭৮ জনই দিনে দুই বেলা খান, নিয়মিত সকালের নাশতা করেন মাত্র ২০ জন; ছাত্রীদের মধ্যে ২০৮ জনের ১৮৯ জন নিয়মিত নাশতা করেন। দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, সকালের ক্লাস বা পরীক্ষা, হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে খাবারের মান ও প্রাপ্যতার সমস্যাকে কারণ বলছেন তাঁরা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান মীম জানান, ধামরাই থেকে সকাল সাড়ে ৮টার ক্লাস ধরতে প্রায়ই ভোর ৫টায় বের হতে হয়, তাই নাশতা হয় না। ক্যাম্পাসের আশপাশে ভালো খাবারের হোটেল কম, ক্যাফেটেরিয়ার খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয় আর বসার জায়গাও কম; ফলে অনেক দিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তবেই খাওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মিতা শবনম বলেন, সময়মতো না ঘুমালে ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা হতে পারে; ঘুমের ঘাটতিতে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব আর খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়, দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত নাশতা না করলে রক্তে গ্লুকোজ কমে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে, সঙ্গে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথাও হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, এমন অনিয়মের চিত্র পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা। জগন্নাথ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় অনেকে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকেন এবং ঢাকায় খরচ সামলাতে চাপে থাকেন; মানসিক চাপ বা বিষণ্নতায় ভুগলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেন্টারের সাহায্য নিতে পারেন বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনটি ডেইলি বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির।
ছবি: Belayet Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)