কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বনরুটির ভেতরে পোকা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার থানাহাট ২ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন বিতরণের সময় এক শিক্ষার্থী প্যাকেট খুলে পোকা দেখতে পায় এবং শিক্ষকদের জানায়। খবর ছড়ালে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর জানায়, চিলমারীর ৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বনরুটি, কলা ও ডিম দেওয়া হয়। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), আর গাইবান্ধাভিত্তিক সংস্থা জিইউকে প্রতিদিন এই ৯৩ বিদ্যালয়ে ১২ হাজার ২১৬টি বনরুটি সরবরাহ করে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ঘটনা জানাজানি হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পোকাযুক্ত রুটিটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। অভিভাবক গোলজার হোসেন বলেন, শিশুদের পুষ্টির জন্য দেওয়া খাবারে পোকা থাকলে তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা কোথায়; সরবরাহের আগে খাবারের মান পরীক্ষা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিভাবকেরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
ইএসডিওর উপজেলা সমন্বয়কারী মাহফুজা বেগম সুইটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পোকাযুক্ত রুটিটি বদলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষককে ওই চালানের সব রুটি ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে, আর বিলে নষ্ট ও পোকাযুক্ত রুটির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখতে বলা হয়েছে, যাতে সেই রুটির টাকা পরিশোধ না হয়।
প্রতিবেদনটি সমকালের চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধির।
ছবি: Department of Foreign Affairs and Trade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0); প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ছবি
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)