ধান কাটার পর জমিতে নাড়া পোড়ানো ঠেকাতে কৃষিযন্ত্র নির্মাতা CNH (সিএনএইচ) তাদের ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ভারতের ১১টি রাজ্যের ২৫টি স্থানে ছড়িয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় খুলেছে যন্ত্রাংশের আলাদা গুদাম, যাতে ধান কাটা আর গম বোনার মাঝের ব্যস্ত সময়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ট্রাক্টর ও বেলার বন্ধ না থাকে। রুরাল ভয়েস ৩০ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি হিসেবে কাজটি শুরু হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে পাঞ্জাবের কাল্লার মাজরি গ্রামে। কোম্পানির দাবি, গ্রামটিতে টানা ১০ বছর কোনো নাড়া পোড়ানো হয়নি। সিএনএইচের হিসাবে, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার টন ধানের খড় বেলার যন্ত্রে বাঁধা হয়েছে, ফলে প্রায় ৩৯,৯০০ একর জমির অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে রক্ষা পেয়েছে। সরাসরি উপকৃত কৃষক সাড়ে সাত হাজারের বেশি, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো গেছে প্রায় ৯৭ হাজার টন।
২৫টি স্থানে খড় ব্যবস্থাপনার যন্ত্রের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন তিন থেকে চার হাজার কৃষক। পাঞ্জাব থেকে কাজটি ছড়িয়েছে হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখণ্ডে, সম্প্রতি কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতেও।
লুধিয়ানার গুদাম সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকবে, সেখানে থাকবে সিএনএইচের বড় ট্রাক্টর ও বেলারের আসল যন্ত্রাংশ। জিপিএসে নজরদারি করা পরিবহন বহর বেশির ভাগ গ্রাহকের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যন্ত্রাংশ পৌঁছে দেবে বলে কোম্পানি জানিয়েছে, যাতে ফসল তোলার অল্প সময়ে যন্ত্র বসে না থাকে। ভারতে কোম্পানিটির ৬০০-র বেশি ডিলার ও এক হাজারের বেশি গ্রাহকসেবা কেন্দ্র আছে।
সিএনএইচ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক Narinder Mittal (নরিন্দর মিত্তল) বলেন, পরের ফসলের জন্য জমি তৈরির সময় কম থাকে, তাই নাড়া না পুড়িয়ে সামলাতে হলে সময়মতো যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ পাওয়া জরুরি। কোম্পানির এই যন্ত্রের তালিকায় আছে নিউ হল্যান্ড ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার, চৌকো ও গোল বেলার, গাইরো রেক, মালচার, চপার ও ফরেজ হারভেস্টার। নিউ হল্যান্ড ভারতে খড় বেলিং শুরু করে ১৯৯৮ সালে।
ছবি: Pekachu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)