দক্ষিণ আফ্রিকায় ভুট্টার মাজরা পোকা দমনে বিটি ভুট্টা এখনও কার্যকর। তবে যাঁরা পাশে রিফিউজ অংশ রাখছেন না, তাঁরা পোকাকে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করছেন। বায়ারের এক আলোচনায় এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন কৃষি কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক জনি ভ্যান রেনসবার্গ (Prof. Johnie van Rensburg)।
তিনি জানান, বুসিওলা ফুসকা (Busseola fusca) প্রজাতির মাজরা পোকার মধ্যে বিটি ভুট্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দেখা দিতে শুরু করেছে, যদিও তা এখনও সীমিত এলাকায়, বিশেষত ইস্টার্ন কেপের কিছু অংশে। তাঁর ব্যাখ্যায়, ভুট্টার জাত বা এর ভেতরের বিষ দুর্বল হচ্ছে না, পোকাই শক্তিশালী হচ্ছে।
উপায়টি সহজ। বিটি ভুট্টার পাশে এক খণ্ড জমিতে নন-বিটি ভুট্টা লাগানোই রিফিউজ। সংবেদনশীল পোকা সেখানে বেঁচে থাকে এবং বিটি জমি থেকে বের হওয়া প্রতিরোধী পোকার সঙ্গে মিলিত হয়। এতে প্রতিরোধ দ্রুত ছড়ায় না। তবে কৌশলটি কাজ করে তখনই, যখন বিটি গাছেও সংবেদনশীল পোকা মারার মতো যথেষ্ট বিষ তৈরি হয়। রিফিউজ না মানা এবং সম্ভবত বিষের অপর্যাপ্ত মাত্রাকে প্রতিরোধের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।
কোথাও প্রতিরোধ ধরা পড়েছে বলেই রিফিউজ ছেড়ে না দিতে অনুরোধ করেছেন ভ্যান রেনসবার্গ। তাঁর কথায়, প্রতিরোধ দেখা দিলেই বিটি জমিতে বড় ক্ষতি হয় না, আর অনেক উৎপাদন এলাকায় প্রতিরোধের খবরই নেই। অন্য গুরুত্বপূর্ণ মাজরা প্রজাতির বিরুদ্ধে বিটি ভুট্টা এখনও কাজ করছে।
ঝুঁকিতে থাকা লাভের অঙ্ক বড়। তিনি যে গবেষণার কথা বলেছেন তাতে ২০ বছরে গড়ে বছরে ১১ শতাংশ বাড়তি ফলন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ভুট্টাচাষিদের মোট ২,১০০ কোটি র্যান্ড বাড়তি আয়ের হিসাব আছে। ১৫ বছরে প্রায় ২ কোটি হেক্টর জমিতে কীটনাশক ছিটাতে হয়নি, এতে উপকারী জীবও রক্ষা পেয়েছে।
ডেকালবের আফ্রিকা অঞ্চলের বীজ ও বৈশিষ্ট্য ব্যবসার ব্যবস্থাপক ফ্রাঁসোয়া ভলভার্ট (Francois Wolvaardt) জানান, দেশটির ভুট্টা জমির প্রায় ৮০ শতাংশে কীট দমন বা আগাছানাশক সহনশীলতার জৈবপ্রযুক্তি পণ্য লাগানো হয়। আলোচনাটি ছিল বায়ারের আয়োজনে, আর প্রযুক্তিটি টিকে থাকায় বীজ ব্যবসারও নিজস্ব স্বার্থ আছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটি রক্ষায় যথেষ্ট রিফিউজ রাখাই সবচেয়ে জরুরি।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফুড ফর মজানসির প্যাট্রিশিয়া টেম্বো (Patricia Tembo)।
ছবি: Dave Hoisington / CIMMYT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)